ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
জেনে নিন গরমে এসির বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৭ কার্যকর কৌশল
ডুয়া ডেস্ক: গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার। দিনের তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে কিংবা রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য অনেক পরিবারই দীর্ঘ সময় এসি চালিয়ে রাখছে। এর প্রভাব পড়ছে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক। তবে এসি ব্যবহারের কিছু সাধারণ ভুলের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল আরও বেড়ে যেতে পারে। কম তাপমাত্রা নির্ধারণ, দীর্ঘদিন ফিল্টার পরিষ্কার না করা, কক্ষের আয়তনের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ এসি ব্যবহার এবং দরজা-জানালার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার মতো কারণে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
গরমে এসির বিদ্যুৎ বিল কমানোর সাতটি কৌশল হলো-
১. তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন
অনেকের ধারণা, এসির তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, ঘর তত দ্রুত ঠান্ডা হবে। বাস্তবে তাপমাত্রা কম নির্ধারণ করলে এসির কমপ্রেসর বেশি সময় কাজ করে, ফলে বিদ্যুৎ খরচও বাড়ে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ২৪ ডিগ্রির নিচে প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমালে বিদ্যুৎ খরচ ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেন। এ সময় সিলিং ফ্যান চালালে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচে আরাম পাওয়া যায়।
২. এসির সঙ্গে সিলিং ফ্যান ব্যবহার করুন
এসি চলার সময় সিলিং ফ্যান ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ অপচয় হয়—এমন ধারণা অনেকের রয়েছে। তবে ফ্যান ঘরের ঠান্ডা বাতাস সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়ায় এসির ওপর চাপ কমে। ফলে একই ধরনের আরাম পেতে এসির তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়িয়ে রাখা যায়। দীর্ঘমেয়াদে এতে বিদ্যুৎ খরচ কমে।
৩. সূর্যের তাপ প্রতিরোধ করুন
গ্রীষ্মের দুপুরে জানালা দিয়ে সরাসরি রোদ ঘরে ঢুকলে কক্ষের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। তখন এসিকে অতিরিক্ত তাপ অপসারণে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। ভারী পর্দা, ব্ল্যাকআউট ব্লাইন্ড বা প্রতিফলকযুক্ত জানালার ফিল্ম ব্যবহার করে সূর্যের তাপ অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। সরাসরি রোদ পড়ার আগেই পর্দা টেনে দিলে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং এসির বিদ্যুৎ খরচও কমে।
৪. দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখুন
ঘরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলে এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকলে এসিকে বেশি সময় ধরে চলতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচও বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দরজা ও জানালার চারপাশের ছোট ছোট ফাঁক বন্ধ করা গেলে শক্তি অপচয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
৫. নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করুন
ফিল্টারে ধুলা জমলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তখন একই মাত্রার শীতলতা দিতে এসিকে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। গ্রীষ্মকালে প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ অন্তর ফিল্টার পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ধুলাবালু বেশি এমন এলাকায় আরও ঘন ঘন পরিষ্কার করা প্রয়োজন হতে পারে।
৬. বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং করুন
এসি নষ্ট হওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো উচিত। এতে সম্ভাব্য ত্রুটি আগেই শনাক্ত করা যায় এবং যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। সার্ভিসিংয়ের সময় সাধারণত কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার করার পাশাপাশি গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষা ও বাতাস চলাচলের পথ পরিষ্কার করা হয়। ফলে এসি কম সময়ে ঘরের তাপমাত্রা কমাতে পারে।
৭. স্লিপ মোড ও টাইমার ব্যবহার করুন
আধুনিক এসিতে থাকা স্লিপ মোড ও টাইমার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্লিপ মোড চালু থাকলে রাতের বেলায় ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ানো হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় কুলিং কমে এবং বিদ্যুৎ খরচও হ্রাস পায়। একইভাবে টাইমার ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট সময় পর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ এড়ানো সম্ভব হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন সরাসরি
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া ম্যাচ: Live দেখুন এখানে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের নিয়োগপত্র, যোগদান ও পদায়নের সূচি প্রকাশ
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- বাস ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
- ইবনে সিনা ট্রাস্টে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে নতুন ঘোষণা হাসিনার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)