ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে ব্যাহত হতে পারে শিশুর ভাষা বিকাশ
ডুয়া ডেস্ক: বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে স্মার্টফোন, ট্যাব, টেলিভিশন ও ল্যাপটপের ব্যবহার শিশুদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে ব্যস্ত রাখা, খাওয়ানো বা শান্ত করার জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের সহায়তা নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের ভাষা শেখা এবং সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন টাইম বলতে শিশু প্রতিদিন মোবাইল ফোন, ট্যাব, টেলিভিশন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে যে সময় ব্যয় করে, সেটিকেই বোঝায়। বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ভাষা শেখার জন্য সরাসরি কথোপকথন ও পারস্পরিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ভিডিও বা কার্টুন দেখে ভাষা শেখার সুযোগ সীমিত, কারণ সেখানে শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না।
মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুই থেকে তিন বছর বয়সী কোনো শিশু যদি প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে থাকে, তাহলে একই বয়সী কম স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুদের তুলনায় তার ভাষা বিকাশে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অভিভাবকদের আচরণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাবা-মা যদি অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে সন্তানের সঙ্গে তাদের কথোপকথন ও মানসিক যোগাযোগ কমে যায়। এর ফলে শিশুর ভাষা শেখার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।
এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২১ সালে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারের অভিভাবকেরা মানসিক চাপ বা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাদের সন্তানদের মধ্যে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন ব্যবহারের সময়ের পাশাপাশি সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে শিক্ষামূলক ভিডিও, ছড়া বা গান দেখে এবং একই সঙ্গে কথা বলে, গান গায়, নড়াচড়া করে কিংবা শেখার কার্যক্রমে অংশ নেয়, তাহলে ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি কমে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় শিশুকে একা স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখা, খাওয়ানোর সময় বা ঘুমানোর আগে নিয়মিত স্ক্রিন দেখানো এবং তার সঙ্গে পর্যাপ্ত কথা না বললে ভাষা ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্ক্রিনকে শিশুর একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম না বানিয়ে অভিভাবকদেরও শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া উচিত। স্ক্রিনে যা দেখানো হচ্ছে তা ব্যাখ্যা করা, প্রশ্ন করা, বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে বোঝানো এবং শিশুর সঙ্গে একসঙ্গে ছড়া, গান বা অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিলে শেখার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।
তারা আরও বলেন, প্রতিদিন কিছু সময় পুরো পরিবারকে স্ক্রিনমুক্ত রাখা, খাবারের সময় মোবাইল ফোন বা টেলিভিশন ব্যবহার না করা, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিভাইস বন্ধ রাখা এবং বড়দেরও সন্তানের সামনে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার সীমিত করা উচিত। কারণ শিশুর ভাষা ও সামাজিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত