ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
খামেনির শেষযাত্রা নিয়ে নতুন আলোচনা, কেন বেছে নেওয়া হলো ইরাক?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার মরদেহ ইরাকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন ইরানি রাষ্ট্রনেতার শেষ বিদায়ের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা কেন প্রতিবেশী দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ প্রশ্ন ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিশ্লেষণ চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস (পিএমইউ)-এর সহযোগিতায় বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর মরদেহ আবার ইরানের মাশহাদে নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় নেতাদের শেষকৃত্য শুধু বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি রাজনৈতিক বৈধতা, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং মিত্র দেশ ও গোষ্ঠীগুলোর ঐক্য প্রদর্শনেরও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। সেই বিবেচনায় ইরাকে খামেনির শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমর্থনের বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে।
ইরাকের গুরুত্বের আরেকটি কারণ হলো, দেশটি শিয়া ইসলামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। কারবালা ও নাজাফ দীর্ঘদিন ধরে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা, নেতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসে কাজার রাজবংশের কয়েকজন ইরানি শাসকও কারবালায় সমাহিত হয়েছেন। ফলে খামেনির স্মরণানুষ্ঠান সেখানে আয়োজনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারকে শিয়া ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সিরিয়ায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে, লেবাননে চাপ বেড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরাকে বৃহৎ পরিসরের শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে, তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং এ সম্পর্ক শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিতেও শক্তিশালী।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খামেনির মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর তার জানাজা ও দাফন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইরাক নিজেকে চলমান সংঘাত থেকে দূরে রাখার নীতি অনুসরণ করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরাকে এই শোকানুষ্ঠান শুধু একজন প্রভাবশালী নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান, আঞ্চলিক প্রভাব এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উদ্যোগ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি
- চাঁদাবাজি-দখলদারি দেখার জন্য কি মানুষ জীবন দিয়েছিল: জুবায়ের
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সুখবর দিলেন সেলিম ভূঁইয়া
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ অক্টোবর)