ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
খামেনির শেষযাত্রা নিয়ে নতুন আলোচনা, কেন বেছে নেওয়া হলো ইরাক?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার মরদেহ ইরাকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একজন ইরানি রাষ্ট্রনেতার শেষ বিদায়ের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা কেন প্রতিবেশী দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ প্রশ্ন ঘিরে বিভিন্ন মহলে বিশ্লেষণ চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস (পিএমইউ)-এর সহযোগিতায় বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর মরদেহ আবার ইরানের মাশহাদে নিয়ে গিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় নেতাদের শেষকৃত্য শুধু বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি রাজনৈতিক বৈধতা, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং মিত্র দেশ ও গোষ্ঠীগুলোর ঐক্য প্রদর্শনেরও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। সেই বিবেচনায় ইরাকে খামেনির শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমর্থনের বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে।
ইরাকের গুরুত্বের আরেকটি কারণ হলো, দেশটি শিয়া ইসলামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। কারবালা ও নাজাফ দীর্ঘদিন ধরে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা, নেতৃত্ব ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসে কাজার রাজবংশের কয়েকজন ইরানি শাসকও কারবালায় সমাহিত হয়েছেন। ফলে খামেনির স্মরণানুষ্ঠান সেখানে আয়োজনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারকে শিয়া ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সিরিয়ায় তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে, লেবাননে চাপ বেড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরাকে বৃহৎ পরিসরের শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে, তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এখনো ঐক্যবদ্ধ এবং এ সম্পর্ক শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিতেও শক্তিশালী।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খামেনির মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর তার জানাজা ও দাফন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইরাক নিজেকে চলমান সংঘাত থেকে দূরে রাখার নীতি অনুসরণ করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরাকে এই শোকানুষ্ঠান শুধু একজন প্রভাবশালী নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান, আঞ্চলিক প্রভাব এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উদ্যোগ।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- ব্রাজিল বনাম নরওয়ের খেলা সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- চলছে ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচ, LIVE দেখুন এখানে
- ডিআর কঙ্গো বনাম ইংল্যান্ড: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ব্রাজিল বনাম নরওয়ের আজকের ম্যাচ লাইভ দেখবেন যেভাবে
- জুলাই আন্দোলন ইস্যুতে ঢাবির ৩৬ শিক্ষকের শাস্তির দাবি
- মরক্কো বনাম কানাডার ম্যাচ চলছে, LIVE দেখুন এখানে
- আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে: কখন, কোথায় ও কিভাবে দেখবেন লাইভ
- বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উদ্যাপিত
- ফ্রান্স বনাম পাড়াগুয়ের আজকের ম্যাচ সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩ জুলাই)
- মির্জা ফখরুলের বাবাকে কবর থেকে ক্ষমা চাইতে বললেন জামায়াত নেতা
- জাবির নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও, বহিরাগত আটক
- হামের উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৭১৮, মোট আক্রান্ত ১ লাখ ১৩ হাজার
- ইকুয়েডরকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মেক্সিকো