ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
যেসব কারণে নরওয়ের বিপক্ষে হেরেছে ব্রাজিল
স্পোর্টস ডেস্ক: পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান থেমে গেল প্রত্যাশার অনেক আগেই। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় সেলেসাওদের। শেষ বাঁশি বাজতেই ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর বিপরীতে ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে নরওয়ে শিবির।
নরওয়ের জয়ের নায়ক ছিলেন আর্লিং হালান্ড। তার জোড়া গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নেয় ইউরোপের দলটি। তবে এই হারের পেছনে শুধু হালান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নয়, ব্রাজিলের একাধিক কৌশলগত ভুলও বড় ভূমিকা রেখেছে।
রক্ষণাত্মক কৌশলের খেসারত
ব্রাজিল মানেই আক্রমণাত্মক ফুটবল আর ‘জোগো বোনিতো’র পরিচয়। কিন্তু নিউ জার্সির ম্যাচে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল শুরু থেকেই অস্বাভাবিকভাবে রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে। বলের নিয়ন্ত্রণ নরওয়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় ছিল তারা। এতে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করার পরিবর্তে পুরো ম্যাচেই চাপে পড়ে খেলতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থতা
প্রথমার্ধেই ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। পেনাল্টি থেকে গোল করার দায়িত্ব নেন ব্রুনো গিমারেস। তবে অস্বাভাবিক 'স্টাটার-স্টেপ' রান-আপ নেওয়ায় গোলরক্ষক তাকে রুখে দেন। ফলে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
তরুণ আক্রমণভাগের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স
শুরুর একাদশে নেইমারকে না রেখে তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিক সহজ একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তার নেওয়া শট লক্ষ্যে না গিয়ে বাইরে চলে যায়। আক্রমণভাগের এই অকার্যকারিতাই ম্যাচে ব্রাজিলকে ভুগিয়েছে।
হালান্ডকে থামানোর পরিকল্পনার অভাব
নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি আর্লিং হালান্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল ম্যাচের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তাকে কার্যত অবাধ স্বাধীনতা দেয়। ফলস্বরূপ, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার দুই গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।
মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ হারানো
পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের বল দখলের হার ছিল মাত্র ৩৭ শতাংশ। কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের মতো অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারদের উপস্থিতি সত্ত্বেও দলটি মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। নরওয়ে ম্যাচের গতি ও ছন্দ নিজেদের দখলে রেখে ব্রাজিলকে বারবার চাপে ফেলেছে।
নেইমারকে দেরিতে নামানোর সিদ্ধান্ত
লুকাস পাকেতা ইনজুরিতে মাঠ ছাড়ার পর সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে ব্রাজিলের খেলায়। সেই সময় অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে নেইমারের উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু কোচ তাকে দীর্ঘ সময় বেঞ্চে রেখেই অপেক্ষা করেন। শেষ দিকে তাকে মাঠে নামানো হলেও তখন ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো সময় আর অবশিষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত, সুযোগ নষ্ট এবং প্রতিপক্ষের তারকা খেলোয়াড়কে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার সম্মিলিত ফলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ব্রাজিলকে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?