ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

খামেনির জানাজা-দাফনে যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন স্পিকার

২০২৬ জুন ৩০ ১৪:৪৮:৪৯

খামেনির জানাজা-দাফনে যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে পাঠাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, জুলাইয়ের শুরুতেই স্পিকারের ইরান সফরের কথা রয়েছে। ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম, ইরাক হয়ে মাশহাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৃহৎ আয়োজনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। এ ঘটনার পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর জুলাই মাসে জানাজা ও দাফনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে।

ইরানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি এবং সারা দেশে কয়েক কোটি মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশটির গণমাধ্যম এটিকে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম শোকযাত্রা হিসেবে উল্লেখ করছে। খামেনির জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ইরান প্রতিবেশী ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লেবানন, ভারত, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশে বিলম্ব হয়। সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম বিবৃতিতে ঘটনার তীব্রতা কিংবা হামলাকারীদের সরাসরি নিন্দা না জানিয়ে সাধারণ শোক প্রকাশ করায় দেশে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছে ইরান নৈতিক সহানুভূতি ও সমর্থন প্রত্যাশা করে। রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্য দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের পরদিন বাংলাদেশ দ্বিতীয় এক বিবৃতিতে ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করে এবং ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ঢাকার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি বাংলাদেশে ইরানের দূতাবাসে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে জাতীয় সংসদেও শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, স্পিকারের এ সফর জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম—বিশেষ করে ওআইসি ও ন্যামে-সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যেও নিজস্ব স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার প্রতিফলন বলেও তারা মনে করেন।

ইমামুল হক প্রত্যয়

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত