ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

কেন কিছু মানুষকে বেশি কামড়ায় মশা? জানাল গবেষণা

২০২৬ জুন ২০ ১১:১৬:০৬

পার্থ হক: কেন কিছু মানুষকে বেশি কামড়ায় মশা, আর কিছু মানুষকে যেন এড়িয়েই চলে? দীর্ঘদিনের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি মোটেও কাকতালীয় নয়। বরং শরীরের গন্ধ, কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন, ত্বকের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য, শরীরের তাপমাত্রা এবং এমনকি পোশাকের রঙও মশার আকর্ষণের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীর থেকে নির্গত বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করেই মশা তাদের লক্ষ্য নির্বাচন করে। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘ্রাণ, দৃষ্টি, তাপমাত্রা ও রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মশা তার শিকার শনাক্ত করে।

প্রথমেকার্বন ডাই অক্সাইড শনাক্ত করে মশা

গবেষণা অনুযায়ী, দূর থেকে মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত করতে মশা মূলত নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইডের ওপর নির্ভর করে। তবে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর শরীরের স্বতন্ত্র গন্ধই নির্ধারণ করে মশা কামড়াবে কি না।

বিজ্ঞানীরা ত্বক থেকে নির্গত একাধিক রাসায়নিক যৌগ শনাক্ত করেছেন, যা মশাকে আকৃষ্ট করে। এর মধ্যে ১-অক্টেন-৩-অল অন্যতম। ত্বকের তেল ভেঙে এই যৌগ তৈরি হয় এবং এটি মশার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে প্রমাণিত হয়েছে।

রক্তেরগ্রুপ নাকি শরীরের গন্ধ?

অনেক দিন ধরেই ধারণা ছিল, ‘ও’ গ্রুপের রক্তের মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়। কিছু গবেষণায় এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রক্তের গ্রুপের চেয়ে শরীরের স্বাভাবিক গন্ধই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো বিশেষ ধরনের রাসায়নিক গন্ধ তৈরি করে, যা একেক মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন। জিনগত কারণেও কিছু মানুষের শরীরের গন্ধ মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রকাফেলার ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ত্বকে কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তারা অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মশা আকর্ষণ করেন।

অন্তঃসত্ত্বানারী ও স্থূলকায় ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে

স্ত্রী মশা দূর থেকেই কার্বন ডাই অক্সাইড শনাক্ত করতে পারে। ফলে যারা তুলনামূলক বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করেন যেমন স্থূলকায় ব্যক্তি, বড় গড়নের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা যারা সদ্য ব্যায়াম করেছেন তারা বেশি মশার লক্ষ্যবস্তু হন।

এ ছাড়া শরীরের তাপমাত্রা বেশি হওয়া এবং ত্বকে আর্দ্রতা থাকার কারণেও মশা সহজে আকৃষ্ট হয়।

পোশাকেররঙেরও প্রভাব রয়েছে

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড শনাক্ত করার পর মশা গাঢ় রঙের পোশাক পরা মানুষের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। বিশেষ করে কালো, গাঢ় নীল ও লাল রঙের পোশাক মশার নজর কেড়ে নেয়। বিপরীতে সাদা ও সবুজের মতো হালকা রঙ তুলনামূলক কম আকর্ষণীয়।

মশারকামড় এড়াতে করণীয়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী-

ডিইইটি, পিকারিডিন বা প্রাকৃতিক তেলযুক্ত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা।

ভোর ও সন্ধ্যায় বাইরে গেলে লম্বা হাতার পোশাক ও ফুল প্যান্ট পরা।

গাঢ় রঙের পরিবর্তে হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করা।

বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ করা।

জানালায় নেট লাগানো এবং ঘরের ভেতরে ফ্যান ব্যবহার করা।

বিজ্ঞানীদের মতে, মশা সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব না হলেও তারা কেন নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে বেশি আকৃষ্ট হয়, তা বোঝার মাধ্যমে আরও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ও জিকা ভাইরাসের মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় এসব গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২০ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এবার... বিস্তারিত