ঢাকা, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্তেজনার মাঝেই শান্তির ইঙ্গিত, যুদ্ধবিরতি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ এপ্রিল ২২ ১০:৩৭:৩৯

উত্তেজনার মাঝেই শান্তির ইঙ্গিত, যুদ্ধবিরতি বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত সরে এসে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অনির্দিষ্টকাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আসা অনুরোধ বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন এবং জানান, ইরান প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত ও আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে।

এদিকে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের অবস্থান পরে জানানো হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তার এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইসলামাবাদ শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি পাকিস্তানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন।

তবে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকায় পরিস্থিতি এখনও জটিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে ‘যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তবে তেহরান তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে অনড়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মূলত কূটনৈতিক চাপ মোকাবিলার কৌশল হতে পারে। স্টিমসন সেন্টার এর বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিনের মতে, পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো এগোয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ কৌশলগত ইস্যুগুলোতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। এখন নজর সম্ভাব্য নতুন আলোচনার দিকে, যেখানে ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারিত হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত