ঢাকা, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

২০২৬ এপ্রিল ১১ ০৯:৫০:৪১

চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। দীর্ঘ মহাকাশযাত্রা শেষ করে তাদের বহনকারী ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৭ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণ করে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় এটি ছিল শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট।

প্যারাস্যুটের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমুদ্রে নামার পর আর্টেমিস-২ মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান যাত্রাটিকে অসাধারণ অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, চার নভোচারীই নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

সমুদ্রে অবতরণের পর উদ্ধারকারী দল ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের একটি বিশেষ নৌযানে স্থানান্তর করে। মহাকাশ বিজ্ঞানে এটিকে ‘ফ্রন্ট পোর্চ’ বলা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ইউএসএস জন পি মুরথায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জাহাজে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় মহাকাশে ভারহীন অবস্থায় থাকার পর শরীরের ওপর তার প্রভাব মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষা নিয়মিতভাবে করা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নেওয়া হবে।

নাসা জানিয়েছে, এই মিশনের লক্ষ্য ছিল ১০ দিন। তবে ৯ দিন ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১ এপ্রিল রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রা।

মিশনের সময় তারা চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থান করেন এবং পৃথিবী থেকে তাদের সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল। এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইলের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ে আর্টেমিস-২।

এ ছাড়া অভিযানের সময় নভোচারীরা চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাতের দৃশ্য সরাসরি দেখতে পান, যা তাদের জন্য একটি বিরল অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

আর্টেমিস-২ মিশন মহাকাশ গবেষণায় বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথ ভ্রমণের গৌরব অর্জন করেছেন।

ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে বের হয়ে নভোচারীরা উদ্ধারকারী নৌযানে উঠলে হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোল সেন্টারে উপস্থিত বিজ্ঞানীরা করতালির মাধ্যমে এই সাফল্য উদযাপন করেন।

নাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন রাখার লক্ষ্য রয়েছে। আর্টেমিস-২ মিশন সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তন নাসা প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম এবং নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এই মিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গল গ্রহ অভিযানের পথও আরও সুগম করবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত