ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১০:১১:৪৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিহত প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হলে একই দিন আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, এএসআই (সশস্ত্র) মো. আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান এবং সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ রয়েছেন।

ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ও মাসুদুল হাসানসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ও রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেনও এ মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন।

বর্তমানে এই মামলায় ছয়জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন, আর বাকিরা পলাতক।

৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন। পরে ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরদিন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেন। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষীদের মধ্যে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘তারকা সাক্ষী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট করতে সহায়ক হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২০ জানুয়ারি থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। পরে ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই আজকের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন করে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণায় সব ধরনের সোনার মূল্য বাড়ানোর... বিস্তারিত