ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

ভারতের কাছে হাসিনা ও হাদির আসামিদের ফেরত চাইল বাংলাদেশ

২০২৬ এপ্রিল ০৮ ২১:২৩:৩৯

ভারতের কাছে হাসিনা ও হাদির আসামিদের ফেরত চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক বৈঠকে ভিসা সহজীকরণ ও প্রত্যর্পণ ইস্যু একসঙ্গে সামনে এসেছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পক্ষ জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য আসামিদের প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। বৈঠকে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সমান সুবিধার ওপর নির্ভর করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে।

তিনি শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষ একমত হয়েছে যে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

এ সময় বাংলাদেশ পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়, যাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

বৈঠকে জয়শঙ্কর জানান, বাংলাদেশিদের জন্য চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হতে পারে।

অন্যদিকে, বৈঠক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী ভারত। বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়েও কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।

এর আগে, নয়াদিল্লিতে পৌঁছে মঙ্গলবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল-এর সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান।

এ ছাড়া, জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান এবং সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। জবাবে ভারত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। সামগ্রিকভাবে এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার পথ উন্মুক্ত করেছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত