ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১০:৫০:৪৩

হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার নিয়েছে। প্রণালিটি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো ধ্বংস করে দেবে।

তবে এই হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে বদলে গেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে রোববার এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে আল্টিমেটাম দিয়ে লিখেছেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা পূর্বাঞ্চলীয় সময়!” যদিও ওই পোস্টে তিনি বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।

পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতির দিকে না এগোয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধই রাখে, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

এর আগের দিন শনিবারও একই ইস্যুতে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য “বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন”।

অন্যদিকে আইআরজিসির নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরকে ঘিরে ইরান যে ‘নতুন ব্যবস্থা’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে, তা কার্যকর করতে তারা এখন সামরিক প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপের একটি খসড়া আইনও অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে ইরানের জাতীয় মুদ্রায় শুল্ক দিতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে খসড়া আইনে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাস পরিবহনকারী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবরোধ আরোপ করে ইরান। আইআরজিসি ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হবে।

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত এই রুটে ১২টির বেশি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ফলে তেল ও গ্যাসের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত