ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি বৃষ্টি, বাঁচল ২ লাখ টন ডিজেল

২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৭:০৮:৩১

স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি বৃষ্টি, বাঁচল ২ লাখ টন ডিজেল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) তথ্য অনুযায়ী, এই মাসে দেশজুড়ে গড় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৬২ মিলিমিটার, যেখানে স্বাভাবিক গড় থাকার কথা ৪৭ মিলিমিটার। অস্বাভাবিক এই বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় প্রায় ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে এই বৃষ্টি বোরো চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, যার ফলে সেচ কাজে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে ঢাকার গড় বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৫.৯ শতাংশ বেশি (৬৮ মিমি)। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির দেখা মিলেছে সিলেটে, যেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে ১১০.৫ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ২৪০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী ও রংপুরে যথাক্রমে ৫৪ মিমি (স্বাভাবিকের চেয়ে ৮৯.৬ শতাংশ বেশি) এবং ১২৩ মিমি (৩২৮ শতাংশ বেশি) বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলেও ২১৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ৪৪.৪ শতাংশ, ৭.৯ শতাংশ এবং ৪৮.৬ শতাংশ কম। এদিকে মার্চে দেশের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টির কারণে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলার ১৯ হাজার ৬১৪ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর ফলে প্রায় ২ হাজার ১৩১ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আলুর, যা প্রায় ৯১৬ হেক্টর জমিতে বিস্তৃত ছিল। এছাড়া ২২৯ হেক্টর কলার বাগান, ৭৮ হেক্টর সবজি, ৬২৮ হেক্টর ভুট্টা, ১০২ হেক্টর গম এবং পেঁয়াজ বীজ ও মরিচসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে উত্তরাঞ্চলে ফসলের এই বড় ক্ষতির পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে বোরো চাষে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচন হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বৃষ্টির পানি সেচ পাম্পের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে।

ডিএই-র অতিরিক্ত পরিচালক (ইনপুট, ফিল্ড উইং) মো. রওশন আলম জানিয়েছেন, এই বৃষ্টির ফলে সেচ কাজে ব্যবহৃত প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে। সাধারণত মার্চ ও এপ্রিল মাসে সেচের জন্য প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেলের প্রয়োজন হয়, যা মোট চাহিদার ২০ শতাংশ। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ চালিত পাম্প ব্যবহার করা হয়, সেখানেও বিদ্যুতের সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত