ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২

ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংস্কারে ২.৩৫ লাখ ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:৫০:২৪

ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংস্কারে ২.৩৫ লাখ ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঐতিহাসিক মুঘল স্থাপনা মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। সংস্কৃতি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলারের অনুদান দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা আসে। প্রকল্পটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম।

উদ্বোধনের আগে অতিথিরা মুসা খান মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে মসজিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অবহিত হন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ১৭শ শতাব্দীর এই মুঘল স্থাপনার সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এ প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, মুসা খান মসজিদ পুনরুদ্ধার সম্পন্ন হলে এটি তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও স্থাপত্যশৈলীর স্বকীয়তা ফিরে পাবে এবং দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠবে। এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক পর্যটন বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, সংস্কৃতি সংরক্ষণকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে। অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করতে পেরে তারা গর্বিত।

তিনি জানান, এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান দিচ্ছে, যা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি কারিগরি সহায়তাও প্রদান করা হবে। প্রকল্পের আওতায় একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা হবে, যা আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশে এ তহবিলের আওতায় প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলার ব্যয়ে মোট ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। এ প্রকল্প শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প শুধু একটি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নয়; এটি জ্ঞান, গবেষণা ও অনুপ্রেরণার একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে, যেখানে বিভিন্ন বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে পারবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত