ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
হাম মোকাবিলায় আতঙ্ক নয়, সতর্কতা জরুরি
ডুয়া ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে রোগটির বিস্তার ও কিছু মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কের চেয়ে সঠিক তথ্য জানা ও সচেতনতা বজায় রাখাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
হাম কী এবং কেন ভয়ঙ্কর?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। একবার সংক্রমণ শুরু হলে তা আশপাশের শিশুদের মধ্যেও দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
হামের প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতোই জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়া। কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
কখন বিষয়টি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে?
সব ক্ষেত্রে হাম প্রাণঘাতী না হলেও কিছু পরিস্থিতিতে এটি গুরুতর জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে। হামের জটিলতার মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ এবং বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ অন্তর্ভুক্ত, যা কখনো কখনো মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
টিকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে এই টিকা প্রদান করা হয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত সুরক্ষা নয়, বরং সামষ্টিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ অধিক সংখ্যক শিশু টিকা নিলে ভাইরাসের বিস্তার অনেকাংশে কমে যায়।
অভিভাবকদের করণীয় কী?
সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে হবে এবং প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে এবং নিজে নিজে ওষুধ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা উচিত, যাতে সংক্রমণ অন্যদের মধ্যে না ছড়ায়।
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার মতো অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।
হাম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক হলেও অযথা আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বরং সঠিক তথ্য, সময়মতো পদক্ষেপ এবং সচেতন আচরণই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তাই দায়িত্বশীল আচরণই শিশুর সুরক্ষার প্রধান চাবিকাঠি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গুজব ও ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্তই সন্তানের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে, কারণ সচেতনতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে নিরাপত্তার প্রকৃত শক্তি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- সমকামিতার অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
- প্রথম দিনেই বাজিমাত জিতের নতুন সিনেমার
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ