ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
কিবরিয়া হ'ত্যার নেপথ্যে জানা গেল যেসব কারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পরিকল্পিত ‘কিলিং মিশনে’ মোট ৬ থেকে ৭ জন জড়িত ছিল এবং ঘটনাটি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘটিত হয়েছে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি সরাসরি শুটিংয়ে অংশ নেয় এবং হত্যাকাণ্ড শেষে তারা অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর চেষ্টা করে। তবে সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে তারা ব্যর্থ হয় এবং পরে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর মিরপুরে র্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পৃথক অভিযানে মিরপুরের রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে রাশেদ এবং উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে লোপনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, লোপনের রিভলবারের চেম্বারে ছয়টি গুলি থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে তিনটি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার সময় দুটি গুলি কিবরিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে এবং একটি গুলি আশপাশের লোকজনকে সরাতে ফাঁকা হিসেবে ছোড়া হয়।
র্যাব আরও জানায়, এই কিলিং মিশনে সরাসরি শুটার হিসেবে তিনজন ছিল। এর মধ্যে জনি নামে একজন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে, আর বাকি দুইজনকে সম্প্রতি আটক করা হলো। এছাড়া অস্ত্র সরবরাহ ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বে ‘ভাগিনা মাসুম’, অস্ত্র সরবরাহ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ‘পাতা সোহেল’ এবং নজরদারির দায়িত্বে ‘সুজন’ ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও সম্ভাবনাময় ছিল। তার কারণে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি আরও জানান, মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা যেমন ঝুট ব্যবসা, হাউজিং, ডেভেলপার ও ফুটপাতের চাঁদাবাজি এসবের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বরের একটি হার্ডওয়্যার দোকানে ঢুকে মুখোশধারী তিন অস্ত্রধারী খুব কাছ থেকে গুলি করে গোলাম কিবরিয়াকে হত্যা করে। পালানোর সময় তারা অটোরিকশায় ওঠে এবং ধীরগতির কারণে চালককে গুলি করে আহত করে।
ঘটনার পর কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাত আসামির কথা উল্লেখ করা হয়। এর আগে জনি নামে এক শুটারকে স্থানীয়রা ধরে পুলিশে দেয়। পরে র্যাব অভিযান চালিয়ে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজ ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচ কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন?
- আজ বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের ম্যাচ কখন, কোথায় এবং যেভাবে দেখবেন
- বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম ম্যাচ চলছে, সরাসরি Live দেখুন এখানে
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা
- ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- জাতিসংঘের ভলান্টিয়ার হতে আবেদন করুন আজই
- এপ্রিলে টানা পাঁচ দিনের লম্বা ছুটির সুযোগ
- এনসিপির শীর্ষ চার নেতার পদত্যাগ
- ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে সোনার দামে
- পিরিয়ডের রক্ত নিয়ে যে তথ্য দিল বিজ্ঞানীরা
- ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে বেঁধে রাখা নিয়ে যা জানা গেল
- দেশে সোনার বাজারে বড় দরপতন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ মার্চ)
- ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেশ ছাড়লেন নবীন ফ্যাশনের মালিক