ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় অনুদান দেবে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রামাণ্য করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে অজানা তথ্য, স্থানীয় পর্যায়ের ঘটনা ও অবহেলিত দিকগুলোকে গবেষণার আওতায় আনতে এবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গবেষণার পরিধি অনুযায়ী ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাবেন গবেষক বা গবেষণা দল। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিষয়ও এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ মার্চ এ–সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। মোট তিনটি ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, স্বীকৃত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, একক ব্যক্তি, পিএইচডি গবেষক বা অভিজ্ঞ গবেষকেরা এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রতিবছর গবেষণার জন্য এই অনুদান দেওয়া হবে। তবে প্রতিবছর তিন ক্যাটাগরিতে কতজনকে অনুদান দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) আলমগীর হোসেন জানান, বাজেট পাওয়ার ওপর নির্ভর করে প্রতি বছর অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ ও আহতদের বিষয়ও মন্ত্রণালয়ের কাজের আওতায় থাকায় গবেষণায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গণমানুষের অংশগ্রহণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা যাচাই, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বধ্যভূমি নিয়ে গবেষণা করা যাবে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র, আঞ্চলিক যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ, শরণার্থী জীবন, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, প্রত্যাশা, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীরত্বগাথা নিয়েও গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিন শ্রেণিতে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ক শ্রেণিতে দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে এবং এর মেয়াদ এক বছর। খ শ্রেণিতে একক গবেষণায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে, যার সময়সীমা ৯ মাস। গ শ্রেণিতে একক গবেষণার জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে, যার মেয়াদ ৬ মাস।
সরকারি কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ন্যূনতম নবম গ্রেড), বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সদস্য, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষকরা আবেদন করতে পারবেন। তবে একই সময়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে গবেষণারত থাকলে বা আইনগতভাবে অযোগ্য হলে আবেদন করা যাবে না।
প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হবে এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে তা জমা দিতে হবে। যাচাই–বাছাই শেষে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। গবেষণা কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি তহবিল গঠন ও ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা প্রস্তাব মূল্যায়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
নির্বাচিত গবেষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট ইতিহাসের নতুন দিক উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য তথ্য সংরক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর