ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

চিরচেনা যানজট উধাও, অন্য এক শান্ত রূপ পেল রাজধানী

২০২৬ মার্চ ২০ ২২:২৪:৩০

চিরচেনা যানজট উধাও, অন্য এক শান্ত রূপ পেল রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কাল পবিত্র ঈদুল ফিতর। নাড়ির টানে শেকড়ে ফেরার টানে ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। গত কয়েক দিনের জনস্রোত বিদায় নিতেই চিরচেনা ঢাকা হঠাৎ করেই শান্ত ও নির্জন রূপ ধারণ করেছে। নেই কোনো যানজট, নেই হর্ন আর ধুলোবালির সেই অসহ্য কোলাহল। মেগাসিটি ঢাকা যেন এক বুক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এক অনন্য দৃশ্য। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, ফার্মগেট ও শাহবাগের মতো তীব্র যানজটপ্রবণ সড়কগুলো এখন অনেকটাই জনশূন্য। গণপরিবহনের জন্য নেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নেই ফুটপাথে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেশিরভাগ দোকানপাট ও কলকারখানায় তালা ঝুলছে।

মালিবাগ মোড়ে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসানের সঙ্গে। তিনি কিছুটা বিস্ময় নিয়ে বলেন, “অন্য সময় উত্তরা থেকে মালিবাগ আসতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগে। আজ মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে গেছি! শহরটা যদি সবসময় এমন থাকত, তবে জীবনটা কতই না সহজ হতো।”

সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে আসায় রিকশাচালকরাও কিছুটা নির্ভার। ফার্মগেটের রিকশাচালক রহমত আলী জানান, জ্যামে বসে থাকার ক্লান্তি নেই। ফাঁকা রাস্তায় প্যাডেল মেরে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার আনন্দই আলাদা।

মানুষ ও যানবাহনের চাপ কমায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ। এক অদ্ভুত নীরবতায় ছেয়ে গেছে উত্তর থেকে দক্ষিণ—পুরো রাজধানী। যারা পেশাগত কারণে বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবার ঢাকায় ঈদ করছেন, তাঁদের জন্য এই ফাঁকা শহরটি যেন এক অপার্থিব উপহার।

তবে এই স্বস্তি সাময়িক বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ কাজী রাকিব। তিনি বলেন, “ঢাকা তার ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি মানুষ নিয়ে ধুঁকছে। আমরা যদি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ না করতে পারি, তবে এই যানজটমুক্ত শান্ত ঢাকার দেখা বছরে কেবল দু-একবারই মিলবে।”

বর্তমানে ঢাকা যেন এক বিশাল অবসাদগ্রস্ত শহর, যা দীর্ঘ পরিশ্রমের পর কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে। এই ক্ষণস্থায়ী নীরবতা আর নির্মল বাতাস উপভোগ করছে রাজধানীবাসী।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ