ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

শহীদ মিনারে রাকিব হ/ত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে সম্পন্ন হয় ‘কিলিং মিশন’

২০২৬ মার্চ ১৯ ২২:০৮:১৪

শহীদ মিনারে রাকিব হ/ত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, যেভাবে সম্পন্ন হয় ‘কিলিং মিশন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় টিকটকার ও কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ জানিয়েছে, পরকীয়া ও নারীঘটিত বিরোধের জেরে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজিদের পরিকল্পনায় এবং তার পাঠানো ‘ভাড়াটে খুনি’দের হাতেই প্রাণ হারিয়েছেন রাকিব।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত মূল হোতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর এবং অস্ত্র জোগানদাতা সালাউদ্দিন ওরফে সাগর।

ডিসি মাসুদ আলম জানান, রাকিবকে হত্যার জন্য তিন-চার দিন আগেই খুলনা থেকে ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় আসে। তারা ফকিরাপুল ও সোনারগাঁও এলাকার বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে হত্যার চূড়ান্ত ‘নীলনকশা’ তৈরি করে। রাকিব নিয়মিত শহীদ মিনার এলাকায় টিকটক ভিডিও বানাতেন, তাই ঘাতকরা কয়েক দিন ধরে তাঁর গতিবিধি অনুসরণ (রেকি) করে।

গত ১৫ মার্চ রাত সোয়া ৯টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ জন সরাসরি আক্রমণে অংশ নেয় এবং বাকিরা ব্যাকআপ হিসেবে চারপাশ ঘিরে রাখে। ঘাতকরা রাকিবকে প্রথমে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে একদম কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

তদন্তে জানা গেছে, খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি সাজিদের স্ত্রী জান্নাত মুনের সঙ্গে টিকটকের মাধ্যমে রাকিবের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সাজিদ দীর্ঘদিন ধরে রাকিবকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া রাকিব ‘সাফা’ নামের এক বিবাহিত নারীকে সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন, যা নিয়েও একটি মহলে ক্ষোভ ছিল। মূলত নিজের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে সাজিদ ঢাকা ও খুলনার অপরাধীদের সমন্বয় করে এই খুনের ‘চুক্তি’ বা কন্ট্রাক্ট করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে রাফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে সরাসরি গুলি বর্ষণকারী আলামিনসহ আরও ৭-৮ জন এখনো পলাতক রয়েছে, যাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

নিহত রাকিব শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা তরিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের কর্মচারী। শহীদ মিনার এলাকায় এমন দুঃসাহসিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানীর সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত