ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজের অভিজ্ঞতা জানালেন আশিক চৌধুরী

২০২৬ মার্চ ১৭ ১৪:২৪:৪২

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজের অভিজ্ঞতা জানালেন আশিক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন মাহমুদ হারুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণ এবং তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিডার আগামী ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আশিক চৌধুরী তাঁর নেতৃত্বের তিনটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমার পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু গত এক মাসে অনেকগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এবং ওয়ান-অন-ওয়ান রিভিউতে তার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে।’ তাঁর মতে, তারেক রহমান একজন অত্যন্ত ধৈর্যশীল শ্রোতা এবং তিনি সব সময় ‘রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড’ বা ফলাফলমুখী আলোচনার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতা এবং অনাড়ম্বর জীবনবোধ তাঁকে বিশেষভাবে আশাবাদী করেছে।

বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই কমার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে বিডা প্রধান দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, গতকালই প্রধানমন্ত্রীকে তাঁদের ১৮০ দিনের বা ছয় মাসের বিশেষ রোডম্যাপ হস্তান্তর করেছেন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থাগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের ভয়ভীতি দূর করা।

বিডার এই মহাপরিকল্পনায় মোট ২৫টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সরকারি বন্ধ ও রুগ্ন কারখানাগুলোকে পিপিপি (PPP) মডেলে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতে হস্তান্তর, ফ্রি ট্রেড জোন ও সমরাস্ত্র শিল্প নীতিমালা চূড়ান্ত করা, বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান এবং দুর্নীতি দমনে সমুদ্র ও বিমানবন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ‘প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল’ গঠন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করার বিষয়টিও তাঁদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

ব্যক্তিগত শখের বিষয়ে এক মজার তথ্য দিয়ে আশিক চৌধুরী লেখেন, ‘আমার কার্টুনিস্ট ফ্যানদের জন্য সুখবর। আমি সামনেও প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেবো। প্রধানমন্ত্রী হাসি মুখে হাত-পা না ভাঙার শর্তে অনুমতি দিয়েছেন।’ তবে দীর্ঘ সময় কাজ করলেও কাজের চাপের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর কোনো সেলফি নেই বলেও তিনি আক্ষেপের সুরে জানান। তিনি ঘোষণা দেন যে, আগামী ছয় মাস পর তাঁরা একটি ‘রেজাল্ট কার্ড’ তৈরি করবেন, যেখানে তাঁদের কাজের সাফল্য ও ব্যর্থতা স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত