ঢাকা, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

প্রার্থী হিসেবে নারীদের পিছিয়ে থাকা হতাশাজনক: ইসি

২০২৬ মার্চ ১৬ ১৫:০১:২৯

প্রার্থী হিসেবে নারীদের পিছিয়ে থাকা হতাশাজনক: ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জাতীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভোটগ্রহণে নারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয় হলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের পিছিয়ে থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের পূর্ণতা ও সুষম নেতৃত্বের জন্য নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমরা দেখেছি নারী ভোটাররা জয়ের ক্ষেত্রে বড় ডিসাইডিং ফ্যাক্টর বা নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি যেসব এলাকায় আগে নারীরা ভোট দিতে আসতেন না, সেখানেও বিপুল উপস্থিতি দেখা গেছে।’ তবে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার ছিল মাত্র ০.৪ শতাংশ (বা ৪ শতাংশ), যা একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিয়ে তিনি আরপিও-র কঠোর বিধানের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) অন্যতম শর্ত হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য নিশ্চিত করা। আরপিও-র ৯০ (বি), (সি) এবং (জি) ধারা অনুযায়ী, দলগুলো এই শর্ত কতটুকু পালন করছে, তা কমিশনকে নিয়মিত রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি কোনো দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত সুযোগ থাকলেও এখন থেকেই দলগুলোকে প্রস্তুতির তাগিদ দেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নারীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন শেষ হলেও সামনে স্থানীয় সরকারের বড় লড়াই রয়েছে। সেখানে কেবল সংরক্ষিত আসনেই নয়, বরং সরাসরি পদের জন্য নারীরা যেন অধিক সংখ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, সে বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের সাধারণ নারীদের নেতৃত্ব দিতে আরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নারী প্রার্থীদের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত