ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না: হোয়াইট হাউস

২০২৬ মার্চ ১১ ১৭:০০:৫৩

ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না: হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য না করা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান থামাবে না যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তেহরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।

সংবাদ সম্মেলনে লেভিট বলেন, ‘যখন কমান্ডার-ইন-চিফ সিদ্ধান্ত নেবেন যে, সামরিক লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়েছে এবং ইরান সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের অবস্থায় পৌঁছেছে তখনই এই অভিযান শেষ হবে, তারা সেটা বলুক বা না বলুক।’ তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওয়াশিংটন এখন আর কোনো আংশিক সমঝোতায় আগ্রহী নয়, বরং তারা ইরানের সামরিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন চায়।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, অভিযানের অগ্রগতি বর্তমানে তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনার চেয়েও অনেক বেশি। লেভিট সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘আমরা জানি যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং আমাদের সাহসী যোদ্ধারা খুব দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করছে এবং তা নির্ধারিত সময়ের আগেই এগোচ্ছে।’ তাদের মতে, রণক্ষেত্রে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বয় তেহরানকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।

হোয়াইট হাউস এই অভিযানের পেছনে চারটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও নিক্ষেপ ব্যবস্থা ধ্বংস করা; দ্বিতীয়ত, তাদের পুরো নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা; তৃতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ চিরতরে রুদ্ধ করা এবং চতুর্থত, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সক্রিয় ইরানের মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সামরিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া। এই লক্ষ্যগুলো অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণের তীব্রতা কমবে না বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ এ হামলা শুরু হয়। পারস্য উপসাগরসহ ইরানের প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলোতে আকাশ ও নৌপথে ভয়াবহ আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইতোমধ্যেই নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও ককেশাস অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে আক্রমণ শুরু করেছে। এমনকি যুদ্ধের উত্তাপে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালীও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

পাম্পে তেলের সরবরাহ বাড়াল বিপিসি

পাম্পে তেলের সরবরাহ বাড়াল বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোল পাম্পে তেলের বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ... বিস্তারিত