ঢাকা, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের লক্ষ্য শিক্ষামন্ত্রীর

২০২৬ মার্চ ০৯ ১৯:২৯:৪৭

জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের লক্ষ্য শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুখস্থবিদ্যার চিরাচরিত ধারা ভেঙে দিয়ে সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার এক উচ্চাভিলাষী রূপরেখা ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশ্ববাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীতে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত এক নীতি-নির্ধারণী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটিয়ে বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ তিনি জানান, এই মেয়াদের মধ্যেই আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, যাতে করে শিক্ষার্থীরা কেবল সনদ নয়, বরং বাস্তব কর্মসংস্থানের জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, ‘শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।’

সরকারের এই পরিকল্পনায় কেবল প্রাথমিক বা মাধ্যমিক নয়, উচ্চশিক্ষার মানেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ড. মিলন বলেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নেওয়া হবে।’ এছাড়া অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, সরকার শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাসরুমকে মাল্টিমিডিয়া সুবিধা দিয়ে সুসজ্জিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে জোরদার করা হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সভায় আরও জানানো হয়, মাধ্যমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বাধ্যতামূলক হিসেবে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়ে পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানে ‘মিড-ডে মিল’ ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য লংজেভিটি ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে সুসংগত নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। জীবনমুখী ও উৎপাদনমুখী এই শিক্ষানীতির মাধ্যমে একদিকে যেমন দক্ষ যুবক তৈরি হবে, অন্যদিকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে তারা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত