ঢাকা, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

১৪ মার্চ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ মার্চ ০৮ ২০:১০:২৪

১৪ মার্চ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য মাসিক সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ভাতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর অঙ্গীকার ছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই ভাতা চালু করা হবে। ঈদুল ফিতর ২০২৬-এর আগেই এ কর্মসূচি শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মোট ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মোট ৯৯০টি মন্দির নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭২টি উপজেলায় থাকা বৌদ্ধ বিহার থেকে দুটি করে মোট ১৪৪টি এবং ১৯৮টি উপজেলায় থাকা গির্জা থেকে দুটি করে মোট ৩৯৬টি গির্জা এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

পাইলট প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিটি মসজিদের ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। অর্থাৎ প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে।

অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়িত ৩ হাজার টাকা। বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা। গির্জার যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের জন্য মাসে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ধর্মীয় নেতাদের জন্য উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্টদের ১ হাজার টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবায়িত, বিহার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, যাজক ও সহকারী যাজকদের ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এই সম্মানী দেওয়া হবে এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে টাকা পাঠানো হবে। এতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জ্বালানি সংকটের আতঙ্কে শেয়ারবাজারে বড় ধস

জ্বালানি সংকটের আতঙ্কে শেয়ারবাজারে বড় ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে—এমন গুঞ্জনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। বিনিয়োগকারীদের... বিস্তারিত