ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
গণতন্ত্র রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি পেলেন আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রয়াত তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পদক ২০২৬-এ ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই পদকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এবং বৈঠকের পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সাংবাদিকদেরকে নিশ্চিত করেন যে, খালেদা জিয়ার নাম এবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনা ধারণ করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি বছর এই পদক প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিল রেখে ১৯৭৭ সাল থেকে এই পদক প্রদান করা হচ্ছে। এবারের তালিকায় খালেদা জিয়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য আরও ১৫ জন ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়
১৯৮০-এর দশকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন খালেদা জিয়া। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দলের দায়িত্ব সামলান।
১৯৯১ সালে দেশ সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বাধীন এই সরকারে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০১ সালে আবারো সরকার গঠন করেন তার নেতৃত্বাধীন জোট।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিরোধী নেতা হিসেবে সংসদ ও রাজপথে দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেছেন। দলীয় নেতারা মনে করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তার ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া দেশে সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনগণের কল্যাণমূলক নীতি প্রবর্তনের ক্ষেত্রেও তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে স্বাধীনতা পদক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এটি প্রদান করা হয়। পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে দেশের সর্বাধিক অবদান রাখায় ব্যক্তির কর্মকাণ্ডকে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়।
প্রতি বছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার এই পদক প্রদান করে থাকে। এটি শুধুমাত্র সম্মাননা নয়, বরং দেশপ্রেম এবং জাতীয় দায়িত্বের স্বীকৃতিও বটে।
এদিকে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে, চার দশকের বেশি সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি, গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান অস্বীকার করা কঠিন।
দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে যে প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ এসেছে—এর মধ্যে গুম, মামলা, নির্যাতনসহ নানা পরিস্থিতি মোকাবিলা—সেগুলো এই পদক প্রাপ্তির মাধ্যমে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ফ্রান্স-সেনেগাল ম্যাচ: জেনে নিন কবে, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন
- আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া: কখন, কোথায়, কীভাবে দেখবেন সম্পূর্ণ ম্যাচ
- পর্তুগাল বনাম ডিআর কঙ্গো ম্যাচ, কখন কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া: কখন কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- ব্রাজিল বনাম হাইতি ম্যাচের নতুন সময় ঘোষণা
- বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার টি-২০ ম্যাচ-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- আজ জার্মানি বনাম কুরাকাও: কখন শুরু, কোথায় দেখবেন লাইভ
- কানাডা বনাম কাতার ম্যাচ: লাইভ দেখবেন যেভাবে
- চলছে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচ: সরাসরি দেখুন এখানে
- চলছে ব্রাজিল বনাম মরক্কোর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবিতে ৬৪ জনে ১ জন চান্স পেলেও প্রাথমিকে সবাইকে নিব: ববি হাজ্জাজ
- ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো দেশ
- প্রীতি জিনতার আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস!
- চলছ ব্রাজিল বনাম হাইতির ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- চলছে পর্তুগাল বনাম ডিআর কঙ্গো ম্যাচ, সরাসরি Live দেখুন এখানে