ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের পাল্টা হা'মলায় যুক্তরাষ্ট্রের কত ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হলো?

২০২৬ মার্চ ০৫ ১২:২৭:২৭

ইরানের পাল্টা হা'মলায় যুক্তরাষ্ট্রের কত ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হলো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম তুঙ্গে। ইরানের চালানো সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক খাতে অন্তত ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’-র এক জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার প্রথম দিনেই কাতারের ‘আল উদেইদ বিমানঘাঁটি’-তে আঘাত হানে ইরান। এতে সেখানে থাকা মার্কিন ‘আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম’ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলার। কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই রাডারটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় আরও রয়েছে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত গুলি ছোড়ার ঘটনায় ধ্বংস হওয়া তিনটি ‘এফ–১৫ স্ট্রাইকিং ঈগল’ যুদ্ধবিমান। এতে ৬ জন পাইলট প্রাণে বাঁচলেও বিমানগুলো ধ্বংস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৮২ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এর আগে বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘পঞ্চম নৌবহর’-এর সদর দপ্তরেও আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল-রুয়াইস শিল্পনগরী’-তে মোতায়েন করা ‘থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’ ব্যবস্থার রাডার উপাদানও ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৯০২ বিলিয়ন ডলারে।

সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও হামলার শিকার হয়েছে। রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন এবং কুয়েত সিটির দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এমনকি দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেল ভবনের পাশের পার্কিং লটেও সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে। ইরানের এই অব্যাহত হামলার মুখে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে ওয়াশিংটন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত