ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

অফিসে উপস্থিতি নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন নির্দেশনা

২০২৬ মার্চ ০৪ ১১:৫৭:৫১

অফিসে উপস্থিতি নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সকালের সময়সূচিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২ মার্চ এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। মূলত ২০১৯ এবং ২০২১ সালের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এই কড়াকড়ি আরোপ করা হলো।

পরিপত্রে সরকারি এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, ‘সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা, প্রশাসনিক গতিশীলতা ও আন্তদফতরের সমন্বয় বাড়াতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।’ এই সময়ের মধ্যে কোনো দাপ্তরিক মিটিং বা সেমিনার রাখা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তাদের না পাওয়ার বর্তমান সমস্যাগুলো তুলে ধরে পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আগমনকালে পথিমধ্যে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেমন- সেমিনার, ওয়ার্কশপ, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ, ব্যাংক, হাসপাতাল বা বিদ্যালয়ে গমনে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না।’ সকালে দেরিতে অফিসে আসার এই প্রবণতা সরকারি কাজের চেইন অব কমান্ড এবং ইমেজ নষ্ট করছে।

প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষার তাগিদ দিয়ে পরিপত্রে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তার অনুপস্থিতি ‘জনসাধারণ ও অন্যান্য দফতরের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়; যা নাগরিক সেবা প্রদান, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।’ এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ‘আবশ্যিকভাবে নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ‘দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ সময়সীমা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকবেন’।

সরকার মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী সময়মতো অফিসে আসা ও সময় শেষে প্রস্থান করা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। এছাড়া ‘কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না’ এবং কাজ ছাড়া অফিস সময়ে বাইরে যাওয়া দণ্ডনীয় বলে গণ্য হবে।

তবে কিছু জরুরি এবং বিশেষ সেবাকে এই নিয়মের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন-অ্যাডমিন শিক্ষক, হাসপাতাল ও জেলখানার রোস্টার ডিউটি স্টাফ, জরুরি গ্রাহকসেবা প্রদানকারী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঠপর্যায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়াও ভিভিআইপি প্রটোকল বা আকস্মিক বড় কোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও ছাড় দেওয়া হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত