ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

এমপির স্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত সভা; দুই কর্মকর্তা বদলি

২০২৬ মার্চ ০৩ ১২:২৯:১১

এমপির স্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত সভা; দুই কর্মকর্তা বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রটোকল ভেঙে প্রশাসনিক সভায় এক সংসদ সদস্যের (এমপি) স্ত্রীকে প্রধান অতিথি করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের এক মতবিনিময় সভায় হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়াকে প্রধান অতিথির আসনে বসানো এবং সরকারি কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এক আকস্মিক আদেশে বাহুবলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন দে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল আলমকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আদেশে ইউএনও লিটন দেকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এসি ল্যান্ড মাহবুবুল আলমকে সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। যদিও প্রজ্ঞাপনগুলোতে জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বদলির কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি, তবে স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা এমপির স্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত সেই সভার কারণেই তাঁদের ওপর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সেই বিতর্কিত সভার একটি ছবি ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে সিমি কিবরিয়ার এক পাশে বসে আছেন ইউএনও লিটন দে এবং অন্য পাশে এসি ল্যান্ড মাহবুবুল আলম ও বাহুবল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। সরকারি কোনো প্রোটোকল বা নিয়মে কোনো সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্যকে এমন মর্যাদা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন ওঠে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী।

অবশ্য বদলি হওয়া ইউএনও লিটন দে তাঁর ওপর আসা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ‘বদলির আদেশের সঙ্গে ওইদিনের সভার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।’ তিনি জানান, আগেও তিনি বদলির আদেশ পেয়েছিলেন কিন্তু বিশেষ কারণে তা স্থগিত হয়েছিল। এখনকার আদেশটি স্রেফ কাকতালীয় বলে তিনি মনে করেন।

একই সুরে কথা বলেছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তিনি কর্মকর্তাদের রক্ষাকবচ হয়ে বলেন, ‘এটি রুটিন ওয়ার্ক। সভার জন্য বদলি করা হয়েছে, এটি ঠিক নয়।’ তবে ডিস্ট্রিক্ট লেভেলে রদবদলের এই টাইমিং নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সন্দেহ রয়েই গেছে। নতুন সরকারের অধীনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত