ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি জাহানারা আরজু আর নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, নারী সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি জাহানারা আরজু আর নেই। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, এক কন্যা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক পরিচয়ে জাহানারা আরজু ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের রত্নগর্ভা মা। তাঁর জীবনসঙ্গী প্রয়াত এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন এদেশের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব, যিনি একাধারে হাইকোর্টের বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বামী ও স্ত্রীর পৈতৃক নিবাস যথাক্রমে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও জেলা শহরের সেওতা গ্রামে।
১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জের জাবরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই মহীয়সী নারীর মেধার স্ফুরণ ঘটেছিল শৈশবেই। ইডেন মহিলা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া জাহানারা আরজুর লেখালেখির হাতেখড়ি কৈশোরেই। মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ করে তৎকালীন সুধীসমাজের নজর কেড়েছিলেন। সেই বয়সেই তিনি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক এবং মহাকবি কায়কোবাদের মতো মণীষীদের আশীর্বাদ লাভ করেন। ১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’-এর ‘মুকুলের মাহফিল’-এ তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়, যা ছিল তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রার সূচনা।
পরবর্তীতে ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’-এর মতো প্রখ্যাত সাময়িকীতে তাঁর পদচারণা ছিল নিয়মিত। ১৯৪৯ সালে তিনি কবি সুফিয়া কামালের সাথে যৌথভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ সম্পাদনা করেন, যা এদেশের নারী সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এছাড়াও তিনি ‘পরিক্রম’, ‘হেলথ বুলেটিন’ এবং ‘সেতুবন্ধন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার সাথে যুক্ত ছিলেন।
জাহানারা আরজুর লেখনীতে উঠে আসত মানবিক বোধ, নিখাদ প্রেম ও সমাজ-বাস্তবতার নিবিড় প্রতিচ্ছবি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নীলস্বপ্ন’ (১৯৬২), ‘রৌদ্র ঝরা গান’ (১৯৬৪), ‘সবুজ সবুজ অবুঝ মন’, ‘আমার শব্দে আজন্ম আমি’ এবং ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাঁর অমর সংকলন ‘শোণিতাক্ত আখর’ (১৯৭১)। তাঁর একটি জনপ্রিয় কবিতা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মেহেরজান’।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে তিনি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। দীর্ঘ জীবনে তিনি মোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার তারাবিহর নামাজের পর মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার খলিলপুর গ্রামে স্বামী এ কে এম নুরুল ইসলামের কবরের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ-জেনে নিন ফলাফল
- গান-কবিতায় প্রাণবন্ত ডুপডা’র বৈশাখ উৎসব
- শিক্ষাবৃত্তি দেবে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন শুরু
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- নতুন ট্রেন্ড: ক্রেয়ন স্টাইলে প্রোফাইল ছবি বানাবেন যেভাবে
- জাপানের মেক্সট স্কলারশিপে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদন শুরু
- ১:৮ অনুপাতে নতুন পে স্কেল, বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতন নিয়ে যা জানাল মাউশি
- আর্থিক প্রতিবেদনে নয়ছয়: ৩ অডিট ফার্ম ও ৪ অডিটর নিষিদ্ধ
- টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র্যাংকিংসে যৌথভাবে শীর্ষে ঢাবি