ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও

২০২৬ মার্চ ০১ ১১:১৫:৪৬

৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পাচ্ছে ঠাকুরগাঁও

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঠাকুরগাঁওবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং জেলার চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষে বড় ধরণের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বর্তমান ২৫০ শয্যার ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালটিকে খুব শীঘ্রই ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। রবিবার (১ মার্চ) সকালে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই বিশেষ পরিকল্পনা ও নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অগ্রগতির কথা জানান।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিছন্ন দেখেছি এবং আমরা ভাবছি হাসপাতালটিকে আরও উন্নত করা যায় কিনা।” তিনি মনে করেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেবার মানসিকতা থাকলেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।

ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা সবাই জানেন এখানে একটা মেডিকেল কলেজ করার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। জায়গায়ও ঠিক করা হয়ে গেছে। মেডিকেল কলেজ হলে স্বাস্থ্য সেবা আরও উন্নত হবে আশা করছি। মেডিকেল কলেজটি হলে ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নতি করা হবে। যাতে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পায়। আমরা সবসময় সজাগ থাকব।” এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, সেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় সকল ধরণের সরঞ্জাম ও জনবল সরকার সরবরাহ করবে। তিনি হাসপাতাল সুপারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়াতে আপনাদের যা যা প্রয়োজন আমাদের জানালে আমরা সেভাবে সরকারের তরফ থেকে ব্যবস্থা করে দেব। এছাড়া জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে হাসপাতালে আরেকটি লিফটের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’ এর ফলে রোগীদের ওঠানামার ভোগান্তি লাঘব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে সীমিত সম্পদ কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনসহ চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটা যাতে এই জেলায় ভালো হয় এবং সাধারণ মানুষ যাতে ভালো চিকিৎসা পায় সেই অনুযায়ী আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে যেন কাজ করতে পারি। যারা দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালে কর্মরত আছেন সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দীর্ঘকালীন কর্মরত কর্মীদের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতাগুলোও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত