ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মারা গেলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি 

২০২৬ মার্চ ০১ ০৮:৫৪:১১


ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মারা গেলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাআয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুতে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে রোববার (১ মার্চ) নিশ্চিত করেছে ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম। বার্তাসংস্থা TasnimNews Agency ও Fars News Agency-সহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন মাধ্যম খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।

সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি) তাদের প্রতিবেদনে জানায়, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত ও যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” তার মৃত্যুতে দেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে তার বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। পরে রাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রথম খামেনির নিহত হওয়ার দাবি জানান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রথমদিকে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য স্বীকার করেনি। তবে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ইরানের শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতন্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার পদটি অত্যন্ত ক্ষমতাধর। সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে খামেনির প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। তার নির্দেশনাই দেশটির নীতিনির্ধারণ ও কৌশলগত পদক্ষেপে প্রধান ভূমিকা রাখত।

১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ মোহাম্মাদ রেজা পাহেলভি কে ক্ষমতাচ্যুত করে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন আয়াতুল্লাহ রহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তিনি দেশটির প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত