ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার: ঢাবি প্রক্টর অফিস ঘেরাও করল ডাকসু

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৪:৫১:৩৭

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার: ঢাবি প্রক্টর অফিস ঘেরাও করল ডাকসু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের চরম ব্যর্থতার জবাব চাইতে আজ শনিবার দুপুরে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দায়ীদের শনাক্ত এবং প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ‘দোসরদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম প্রদান করেন।

শনিবার বেলা ১টার দিকে ডাকসুর বিভিন্ন পদের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল প্রক্টর অফিসের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় উত্তাল স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা ‘বাঁশের লাঠি তৈরি কর ছাত্রলীগ ধোলাই কর’; ‘অ্যাকশন,অ্যাকশন ডাইরেক অ্যাকশন’; ‘লীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক অ্যাকশন’; ‘মুজিব মুর্দাবাদ’; ‘ছাত্রলীগ পোস্টারিং করে, প্রশাসন কী করে’; ‘জ্বালোরে জ্বালো আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রশাসনের গাফিলতির তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরে ছাত্র প্রতিনিধিদের একটি প্রতিনিধি দল প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সাথে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করে এই চরম নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ব্যাখ্যা চান। জবাবে প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘পোস্টার কখন লাগিয়েছে আমি যদি জানতাম তাহলে তো ওরে ধরে ফেলতাম। আমি সিকিউরিটি অফিসারকে বলেছি প্রত্যেক দারোয়ানের পরিচয় বের করো এবং এস্টেট অফিস যেন এখনই ওদের বরখাস্ত করে। আমরা ওদের ডাকব প্রত্যেককে ওখানে কী হয়েছে।’ তিনি প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘এবার আমরা কঠোর ব্যবস্থায় যাব। আমাদের চারুকলায় ওখানে দারোয়ান থাকে, কার্জন হলে দারোয়ান থাকে, কলাভবনে দারোয়ান থাকে, তারপরও কীভাবে এরা লাগায়? আমি প্রভোস্ট এবং এস্টেট অফিসকে বলেছি এদের তালিকা তৈরি করো।’

প্রক্টর অফিস থেকে বেরিয়ে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের সাংবাদিকদের কাছে প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততাকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনটি (ছাত্রলীগ) গত রাতেই শুধু নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কাজ করেছে। তারা শেখ হাসিনার ছবি, ব্যানার টানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ গেটে তালা লাগানোর মতো কাজ করেছে, যা প্রশাসনের অবহেলার কারণেই তারা এসব করার সাহস পাচ্ছে।’ ১৫ জুলাইয়ের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, খুনিরা কীভাবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালানোর স্পর্ধা দেখায়।

জুবায়ের সরাসরি ছাত্রলীগকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে চোরের মতো এসে পোস্টার লাগিয়ে যেও না, যদি ধরা পড়ো তবে কুত্তার মতো পিটানো হবে।’ এ সময় তিনি দেশের সামগ্রিক অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন এবং পাবনা, নরসিংদী ও রামপুরায় নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিচার চান। তিনি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে নতুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করার দাবি জানান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ