ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১১:০৩:৩৮

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়া ঠেকাতে এক বিশেষ প্রশাসনিক কৌশল গ্রহণ করেছে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ। জামিনে মুক্তি পাওয়া বিতর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা মাঠপর্যায়ে দলের তৎপরতা বাড়াতে সক্ষম, তাঁদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার বা ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর জন্য আট জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত এক গোপন চিঠিতে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়।

রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে। বিশেষত, যেসব রাজনৈতিক বা ফ্যাসিস্ট সংগঠনের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ বা স্থগিত রয়েছে, তাঁদের প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরা যদি আদালত থেকে জামিন পান, তবে তাঁদের কারাফটকেই পুনরায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নির্দেশনাটিতে একটি বিশেষ মানদণ্ডও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যেসকল নেতা বা কর্মী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর দলকে শক্তিশালী করার ক্ষমতা রাখেন বা মাঠে রাজনৈতিক তৎপরতা প্রদর্শন করতে সক্ষম, কেবল তাঁদের ক্ষেত্রেই এই ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ প্রযোজ্য হবে। তবে যাদের এমন কোনো সক্ষমতা বা জনবল নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তারের প্রয়োজন নেই বলে ডিআইজির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও চিঠিতে সরাসরি ‘আওয়ামী লীগ’ বা নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে ‘নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট সংগঠন’ শব্দবন্ধটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশেষ ইঙ্গিতবাহী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই অভ্যন্তরীণ চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই চিঠি সাংবাদিকদের কাছে যাওয়া চরম দুর্বলতা আমি মনে করি, আপনাদের কাছে যাওয়া উচিত ছিল না। এটা একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ তিনি দাবি করেন, এই নির্দেশনা কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের রুখতেই এই আগাম সতর্কতা।

পরবর্তীতে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে এই নির্দেশনা নয়। বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই বিশেষ নির্দেশনা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় সেজন্য নিজেদের সদস্যদের আগাম বার্তা দেওয়ার অংশ এই নির্দেশনা। এটি রুটিন ওয়ার্ক নয়।’ তিনি জানান যে, এটি পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো আদেশ নয় বরং রেঞ্জ পুলিশের একান্তই নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

ডিআইজি শাহজাহান স্বীকার করেন যে, চিঠির শব্দ চয়নে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি, কোনো সংগঠন বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি যারা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত, তাদের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন টার্গেট করি নাই। যারা নিষিদ্ধঘোষিত, যারা সমাজের অপরাধী, বিভিন্ন কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন, সমাজের ভেতরে বিশৃঙ্খলা করতে পারে, তাদের বিষয়ে কনসার্ন আমাদের।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সিম্পল কথাটা আইনের আওতায় বললে এই শব্দগুলো আসতো না।’

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত