ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন: কে বসবেন স্পিকারের আসনে?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১১:৩৩:৫১

১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন: কে বসবেন স্পিকারের আসনে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১২ মার্চ। তবে বিগত সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাবন্দী থাকায় প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে এক বিরল সাংবিধানিক পেঁচ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নতুন অধিবেশন শুরু করলেও এবার দুই পদের কেউই উপস্থিত নেই, যা সংসদীয় ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সদস্যকে দিয়ে অধিবেশন শুরু করাতে হবে। সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধির ৫ ধারা অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি কাউকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মনোনীত করতে পারেন। সংসদ গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিনের মতে, এই সংকট কাটাতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপই একমাত্র সমাধান। ১২ মার্চের ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ দেবেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এরই মধ্যে বড় বড় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। নতুন সরকারে তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরেও প্রস্তুতি সম্পন্ন। জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক পরেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মূল প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকার হিসেবে একজনের নাম প্রস্তাব করবেন এবং অন্য একজন তা সমর্থন করবেন। যদি একাধিক প্রার্থী না থাকে, তবে কণ্ঠভোটের মাধ্যমেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন এবং তাঁর সভাপতিত্বেই পরবর্তী সব সংসদীয় কার্যক্রম, যেমন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ পরিচালিত হবে।

সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের শৃঙ্খলারক্ষায় হুইপ বা চিফ হুইপের পদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিফ হুইপ মূলত আইনসভায় নিজ দলের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন এবং দলীয় সদস্যদের উপস্থিতি ও ভোট প্রদান নিশ্চিত করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপ পদটি পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদাসম্পন্ন। বিএনপি এখনও তাদের চিফ হুইপের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও বিরোধী দল তাদের সংসদীয় টিম সাজিয়ে ফেলেছে। ১২ মার্চের অধিবেশনের মাধ্যমেই এই নতুন সংসদীয় নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ যাত্রা শুরু হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত