ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

নারীদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেল, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৫:৩৯:০৬

নারীদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেল, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে ভয়ংকর এক প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ, যেখানে ব্যক্তিগত ভিডিওকে অস্ত্র বানিয়ে নারীদের ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। এক তরুণীর অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য একই কৌশলে একাধিক নারীকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা।

গত ৪ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় অভিযোগ করে এক তরুণী জানান, তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন অপরাধীর খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। ওই যুবক গত দেড় মাসে একই কৌশলে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।

আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ তথ্য জানান। ১৩ এপ্রিল রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের ওই প্রতারককে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করি। প্রথম অভিযোগটি ছিল, একজন তরুণীকে পর্নোগ্রাফি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তারের পর একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসতে থাকে। এখন পর্যন্ত আমরা মোট ১০টি অভিযোগ পেয়েছি, আর আসামি নিজে ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।’

সব ক্ষেত্রে প্রতারণার ধরন একই ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ওই যুবক ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেল করতেন, কখনো ধর্ষণ করতেন আবার কখনো ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। যেসব ভুক্তভোগীকে পাওয়া গেছে, বেশির ভাগই ঢাকার মিরপুর এলাকার।

গত ৪ মার্চ সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পর ৯ এপ্রিল পর্যন্ত গত দেড় মাসের মধ্যে ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে রাব্বির বিরুদ্ধে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাব্বি প্রথমে একজন নারীকে টার্গেট করত। পরিচয়ের পর শুরুতে ওই নারীর মুঠোফোন নিয়ে নিত এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিত। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই নারীর বন্ধুতালিকার অন্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করত। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তাদের নানা অজুহাতে বাইরে ডেকে নিত।

যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া কলেজ-সংলগ্ন এলাকায় দুটি বাসায় ভুক্তভোগীদের নেওয়া হতো বলে জানানো হয়। দিনের বেলায় একটিতে, রাতের বেলায় আরেকটি বাসায় নিয়ে যেত সে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্ল্যাকমেল করে নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, কানের দুল, মুঠোফোন, নগদ টাকা, ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অনেকেই সামাজিক সম্মানের ভয়ে সরাসরি অভিযোগ না করে ‘মোবাইল হারিয়েছে’ উল্লেখ করে জিডি করতেন। সেই সূত্র ধরে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াসী উদ্দিন।

রাব্বির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে, আরও তিন-চারটি জিডি তদন্তাধীন রয়েছে। তার কাছ থেকে পাঁচটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ, যেগুলো বিভিন্ন ভুক্তভোগীর বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম রাব্বি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন এবং কোনো পেশায় যুক্ত ছিলেন না প্রতারণাই ছিল তার আয়ের প্রধান উৎস। এমনকি যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, তাকেও একই কৌশলে ফাঁদে ফেলেছিলেন।

এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

২ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

২ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত বাজেট সহায়তার বাইরে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার... বিস্তারিত