ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১২:২৬:৫৭

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, যা জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এ লক্ষ্যে একটি সময়োপযোগী জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু-ইকোনমি রক্ষায় নৌবাহিনীর ভূমিকা জোরদার এবং বিমান বাহিনীর নজরদারি ও দ্রুত মো মোতায়েন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মেড ইন বাংলাদেশ' উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে একটি আধুনিক, দ্রুত ও সমন্বিত সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষার মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিমান বাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের পরিকল্পনার পাশাপাশি তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, পেশাগত দক্ষতা এবং 'এক পদ, এক পেনশন'-এর মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন করে যাচ্ছে। এই দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সুদৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

২ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

২ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত বাজেট সহায়তার বাইরে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার... বিস্তারিত