ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা ট্রাম্পের 

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ২০:০৪:২৮

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা ট্রাম্পের 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার পথ খোলা রাখলেও অন্যদিকে কঠোর সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রাখছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ স্থায়ীভাবে বন্ধের নিশ্চয়তা দেয়, তবে সীমিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ছাড় দেওয়া হতে পারে; কিন্তু শর্ত মানা না হলে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতি মাথায় রেখে পেন্টাগন প্রেসিডেন্টের কাছে কয়েকটি বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এসব বিকল্পের মধ্যে ইরানের ক্ষমতাকাঠামো দুর্বল করার কৌশলও রয়েছে, যার লক্ষ্য হতে পারেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগে এসব পরিকল্পনা ট্রাম্পকে জানানো হয়। তাঁর এক উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সব বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান যা দেশীয় রাজনীতিতে সফলতা হিসেবে তুলে ধরা যাবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি সংঘাত এড়াতে চায়, তবে এমন প্রস্তাব দিতে হবে যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না; অন্যথায় ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হতে পারে।

এদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরায়েল মনে করছে, আলোচনার চেয়ে সংঘাতের ঝুঁকিই এখন বেশি। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটেছে বলেও বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দ্রুত অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকলেও এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি ট্রাম্প।

অন্যদিকে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, দুই পক্ষ কিছু নীতিগত বিষয়ে আংশিক সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং ইরান শিগগিরই একটি লিখিত প্রস্তাব দেবে। তাঁর দাবি, জেনেভায় সাম্প্রতিক বৈঠকে ওয়াশিংটন পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের শর্ত দেয়নি।

আরাঘচি বলেন, ইরান কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখতে পারে তা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে, আর এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। প্রস্তাবের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি যুক্ত আছেন এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণসহ কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বড় ফারাক রয়ে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানের প্রস্তাব হতে হবে বিস্তারিত ও বিশ্বাসযোগ্য—যাতে প্রমাণ হয় তাদের কর্মসূচি কোনোভাবেই হুমকি নয়। এক কর্মকর্তা বলেন, লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পরই বোঝা যাবে ইরান কতটা আন্তরিক; আপাতত সিদ্ধান্তের বল তাদের কোর্টেই রয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত