ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
নিয়ত ভুলে গেলে রোজা হবে কি? যা বলছে ইসলাম
নিউজ ডেস্ক: পবিত্র রমজানে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন— রাতে বা সাহরির সময় মুখে নিয়ত করতে ভুলে গেলে রোজা কি সহিহ হবে? ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহের আলোকে এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট ও সহজ ব্যাখ্যা রয়েছে, যা রোজাদারদের অযথা উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেয়।
নিয়ত— মূলত অন্তরের অঙ্গীকার
ইসলামে কোনো ইবাদতই নিয়ত ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। তবে নিয়ত মানে মুখে উচ্চারণ নয়; বরং অন্তরের দৃঢ় সংকল্প। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মনে মনে রোজা রাখার ইচ্ছা করলেই নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যায়। কেউ মুখে শব্দ উচ্চারণ না করলেও, যদি অন্তরে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত থাকে, তবে তাঁর রোজা সহিহ হবে। (আল-বাহরুর রায়েক: ২/৪৫২; রদ্দুল মুহতার: ৩/৩৩৯; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১৯৫)
সাহরি কি নিয়তের বিকল্প?
ফকিহদের মতে, রমজানে রোজার উদ্দেশ্যে সাহরি খাওয়া কার্যত নিয়ত হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ কেউ যদি রোজা রাখার সংকল্প নিয়ে সাহরিতে অংশ নেন, আলাদাভাবে কিছু না বললেও নিয়ত পূর্ণ হয়ে যায়। তবে শর্ত হলো— মনে রোজার ইচ্ছা থাকতে হবে। শুধুমাত্র ক্ষুধা নিবারণের উদ্দেশ্যে খেলে তা নিয়ত হিসেবে ধরা হবে না। (কিতাবুল ফিকাহ: ১/৮৮১)
নিয়তের সময়সীমা কতটুকু?
রমজানের ফরজ রোজার নিয়ত আগের দিন সূর্যাস্তের পর থেকে পরের দিন দুপুরের আনুমানিক এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত করা যায়, যাকে শরিয়তের ভাষায় ‘দাহওয়াতুল কুবরা’ বলা হয়। তবে সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়ত করার আগ পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী কোনো কাজ করা যাবে না।
তবে রাতেই নিয়ত করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না, তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।” (সুনানে আবু দাউদ: ১/৩৩৩; বাদায়েউস সানায়ে: ২/২২৯)। এই হাদিস রাতে নিয়ত করার গুরুত্ব বোঝায়।
প্রতিদিনের জন্য আলাদা নিয়ত
রমজানের প্রতিটি রোজা স্বতন্ত্র ইবাদত। তাই প্রতিদিনের জন্য পৃথক নিয়ত আবশ্যক। একবার নিয়ত করে পুরো মাসের জন্য যথেষ্ট নয়। হাদিসে এসেছে, “সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারি: ১)। সোমবারের রোজার নিয়ত রোববার সূর্যাস্তের পর থেকেই করা যাবে।
প্রচলিত নিয়তের দোয়া
মুখে নিয়ত বলা ফরজ নয়, তবে অনেকেই আত্মতৃপ্তির জন্য উচ্চারণ করেন। বহুল প্রচলিত দোয়াটি হলো— “নাওয়াইতু আন আছূমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।”
এর অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করো; নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
সবশেষে মনে রাখতে হবে— নিয়তের আসল জায়গা অন্তর। মুখে বলতে ভুলে গেলেও যদি মনে রোজা রাখার দৃঢ় সংকল্প থাকে কিংবা সেই উদ্দেশ্যে সাহরি খাওয়া হয়, তবে রোজা নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার সিয়াম কবুল করুন। আমিন।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি
- চাঁদাবাজি-দখলদারি দেখার জন্য কি মানুষ জীবন দিয়েছিল: জুবায়ের
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সুখবর দিলেন সেলিম ভূঁইয়া
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ অক্টোবর)