ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

তাজ উদ্দিন হ'ত্যা মামলায় সিলেটের ডিসিকে আদালতের শোকজ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১২:২৯:০৩

তাজ উদ্দিন হ'ত্যা মামলায় সিলেটের ডিসিকে আদালতের শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে তাজ উদ্দিন নিহতের ঘটনায় তদন্তে অসহযোগিতা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহে অনীহার অভিযোগে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারোয়ার আলমকে কঠোর কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই-এর চাহিদা অনুযায়ী ‘গুলি করার নির্দেশদাতা’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র বারবার চেয়েও না পাওয়ায় বিচারক এই আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে শোকজ জারির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই নোটিশ ইস্যু করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিহতের পরিবার ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট হত্যা মামলা দায়ের করলেও জেলা প্রশাসনের গড়িমসির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। এটি সরাসরি বিচারকাজে প্রতিবন্ধকতা এবং আদালত অবমাননার শামিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোলাপগঞ্জের ধারাবহর এলাকায় আন্দোলন চলাকালে তাজ উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গত বছরের ২২ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছিলেন। বারবার সময় পার হওয়ার পরও তথ্য না মেলায় আদালত গত বছরের জুনে ডিসি ও বিজিবিকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন। ওই আদেশের পর বিজিবি তাদের তথ্য সরবরাহ করলেও জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

আদালত তাঁর আদেশে স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা না করা এবং আদালতের আদেশ অমান্য করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না মিললে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, ‘আদালত শোকজ দিয়েছেন বলে শুনেছি। এ বিষয়ে আদালতে জবাব দেওয়া হবে।’ এদিকে বিচারকাজে এমন দীর্ঘসূত্রতার ফলে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত