ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? আলোচনায় মির্জা ফখরুলসহ বেশ কয়েকজন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৩:২৯:২৮

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? আলোচনায় মির্জা ফখরুলসহ বেশ কয়েকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলটির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ নেতাই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী প্রধানমন্ত্রী হবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদে মনোনয়ন সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছে। দলের সূত্র জানায়, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা হচ্ছে। তিন প্রবীণ নেতা এবং একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতির পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি এবং অতীতেও কোনো মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীত্ব পাননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত এবং একমাত্র কুয়েতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবন তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত করছে। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত এই নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে রাখা হলে দলীয় অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রক্ষা হবে বলে মনে করছে বিএনপি।

অপরদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতি পদে নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানও আলোচনার তালিকায় রয়েছেন। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রকাশিত হবে, যার পরেই সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। উল্লেখযোগ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারীর নামও আলোচনা তালিকায় আছে।

২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অধীনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি একাই ১৯৩টি আসন অর্জন করেছিল এবং জোটের অন্যান্য শরিকসহ মোট আসন ছিল ২১৬। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টি আসনে, জোটের শরিকরা আরও ৩টি আসন পেয়েছে। সব মিলিয়ে পরবর্তী সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। তবে আরও দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন যুক্ত হলে জোটের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত