ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বনাম ‘না’: কোন রায়ে কী পরিবর্তন আসবে আগামীর বাংলাদেশে?
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ঐতিহাসিক গণভোট। এই গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো ও শাসনের ধরণ। তবে সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন রয়েছে—ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার ফলে বাস্তবে কী কী পরিবর্তন আসবে?
ব্যালটে যা থাকছে:
গণভোটের ব্যালটে জুলাই সনদে বর্ণিত ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি প্রস্তাবকে চারটি গুচ্ছ প্রশ্নে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে যেসব পরিবর্তন আসবে:
১. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ: একজন ব্যক্তি কোনোভাবেই দুই মেয়াদের বেশি অর্থাৎ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: জাতীয় সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। ১০০ সদস্যের একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধনে তাদের অনুমোদন লাগবে।
৩. তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে।
৪. সংসদ সদস্য ও নারীর আসন: সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হবে। এছাড়া বাজেট ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য বিষয়ে এমপিরা নিজ দলের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
৫. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি উচ্চ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হবেন। তিনি মানবাধিকার ও তথ্য কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন।
৬. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে আপিল বিভাগ থেকে। বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে।
৭. সংস্কার পরিষদ: নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে, যারা ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবে।
গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে যা ঘটবে:
১. বিদ্যমান কাঠামো: জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে না এবং রাষ্ট্র আগের বা বর্তমান কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই চলবে।
২. মেয়াদহীন প্রধানমন্ত্রিত্ব: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার কোনো মেয়াদসীমা থাকবে না।
৩. দলীয় নিয়ন্ত্রণ: সংসদ সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো বিষয়েই মত দিতে পারবেন না।
৪. ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু: রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে আগের মতোই অস্বচ্ছতা থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
৫. বাধ্যবাধকতা নেই: অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত সংস্কার বাস্তবায়নের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর থাকবে না।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ মনে করেন, বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ কাঠামোর কারণেই অতীতে শাসকরা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার মাধ্যমেই সেই পথ বন্ধ করে রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আগামীকালকের এই ভোট কেবল প্রার্থী নির্বাচন নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে বা বিপক্ষে জনগণের চূড়ান্ত রায়।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পাকিস্তান বনাম যুক্তরাষ্ট্র: কখন, কোথায় সরাসরি Live দেখবেন জানুন
- বিশ্বরেকর্ড জুটিতে আমিরাতকে ১০ উইকেটে উড়াল নিউজিল্যান্ড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- বিএনপি দুই নেতার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের হুলস্থুল
- নির্বাচনে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করল সরকার