ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনে রুলস অব এনগেজমেন্ট মেনেই কঠোর হবে সেনা মোতায়েন 

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৭:১২:১৯

নির্বাচনে রুলস অব এনগেজমেন্ট মেনেই কঠোর হবে সেনা মোতায়েন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করতে পারে বলে জানিয়েছে সেনাসদর। তবে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপ হবে সম্পূর্ণ নির্ধারিত ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ অনুসরণ করে এবং আইনগত কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নির্বাচনকালীন সেনা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী কেন্দ্রের পরিস্থিতি বিবেচনায় যদি বল প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত এনগেজমেন্ট রুলস রয়েছে। এই রুলস অনুযায়ী ধাপে ধাপে বল প্রয়োগের মাত্রা বাড়ানোর একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটের আগে বা পরে মব সৃষ্টির আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতেও এ ধরনের সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে। সরকার, নির্বাচন কমিশন, অসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সশস্ত্র বাহিনী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা গ্রহণে সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত।

রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক আলোচনা সেনাবাহিনীর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী সম্পন্ন করেছে।

নির্বাচন ঘিরে জনমনে সংশয় দূর করতে সেনাবাহিনী প্রধান নিজে দেশের বিভিন্ন বিভাগে সফর করেছেন বলেও জানান তিনি। এসব সফরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব এলাকা সবসময়ই স্পর্শকাতর। নির্বাচনকেন্দ্রিক ঝুঁকিসহ সব ধরনের আশঙ্কা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা মূল্যায়নের মধ্যে রয়েছে এবং সে অনুযায়ী সেনা মোতায়েন ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি উপজেলাভিত্তিক ও ক্ষেত্রবিশেষে কেন্দ্রভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে একসঙ্গে বড় পরিসরে পেট্রোল পরিচালনা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি হবে।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী। সেনাপ্রধানের সুস্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা হবে। জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে সেটাই হবে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতার বাস্তব প্রমাণ।

সাইবার হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

সবশেষে তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সেনাসদস্যদের নন-লেথাল অস্ত্র ও রায়ট কন্ট্রোল সরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়েছে এবং নির্বাচন উপলক্ষে আরও অতিরিক্ত সরঞ্জাম যুক্ত করা হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন