ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২
প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ও সংরক্ষিত আসনের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাংবিধানিক ও নীতিগত অধিকার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছে ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর মধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ২ শতাংশ কোটা, জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ১ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সংরক্ষিত আসন চালুর প্রস্তাব গুরুত্ব পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত “ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রত্যাশা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচের সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, সদস্য সচিব খন্দকার জহুরুল আলম এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলো জনস্বার্থ ও সামাজিক বৈষম্য কমানোর বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়গুলো রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এখনই।
তারা আরও বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখনো কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুস্পষ্ট দাবি ও প্রত্যাশার তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংগঠন দুইটি জানায়, বাংলাদেশ ২০০৭ সালে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ (সিআরপিডি) অনুমোদন করে। এর আলোকে ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন এবং ২০১৯ সালে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়নের অগ্রগতি সীমিত রয়েছে। ফলে বহু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন এখনো বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।
দাবির মধ্যে রয়েছে— প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা, জাতীয় থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর কার্যক্রম সক্রিয় করা এবং রুলস অব বিজনেস সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা বিষয়কে সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় আনা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরিতে অধিকাংশ কোটা বাতিল হলেও বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য সম্মিলিতভাবে ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। সেখানে কেবল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথকভাবে ২ শতাংশ কোটা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী জাতিসংঘে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল, এসডিজি সূচক ও জাতীয় জরিপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা এবং জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সংগঠনগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের দাবিও তোলে।
এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বিদ্যমান সুবিধা— যেমন গাইড নিয়ে ভোটদান, যানবাহন ব্যবহার ও নিচতলায় বিশেষ বুথের ব্যবস্থা— এসব বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ডায়িং