ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২
আশুলিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ছয়জনের মৃ'ত্যুদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক: আশুলিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছয়জনকে হত্যার ঘটনা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সাত জনকে জাবজ্জীবন, দুই জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, এবং রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সাথেই সাইফুল ইসলামের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, যার অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপ্স) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল।
অপরদিকে পলাতক ৮ আসামি হলেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান। আসামিপক্ষের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।
মামলায় জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। নিহতদের লাশ একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে জীবন্ত অবস্থায় পেট্রল ঢেলে আগুনে পোড়ানো হয়। এর আগে ৪ আগস্ট একজন শহীদ হন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। মামলা পরিচালনা শুরু হয় ১৪ সেপ্টেম্বর, যেখানে চিফ প্রসিকিউটর ঘটনাস্থলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। মামলায় ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়। মোট ৬২ জনকে সাক্ষী করা হয়, যার মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। পলাতক ৮ আসামির গ্রেফতারি পরোয়ানা ও শ্যোন অ্যারেস্টও জারি করা হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ডায়িং