ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২
শিক্ষক নিবন্ধন নয়, সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এনটিআরসিএ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নিবন্ধন পরীক্ষার প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
এনটিআরসিএ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ‘নিবন্ধন’ শব্দটি থেকে বেরিয়ে এসে নিয়োগভিত্তিক প্রক্রিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সে অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের পরিবর্তে ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শেষে এনটিআরসিএর বোর্ড সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন হবে নাকি ৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যেহেতু সরাসরি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের চিন্তা করা হচ্ছে, তাই নিবন্ধন পদ্ধতি থেকে সরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বোর্ড সভায় আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে আসন্ন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী রবিবার থেকে অনলাইনে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ১৫ দিন চালু রাখা হতে পারে।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, টেলিটকের সঙ্গে আলোচনার পর ই-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময় শেষে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ শুরু করবে সংস্থাটি।
এনটিআরসিএর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান মিলিয়ে মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় রয়েছে ১৯০টি শূন্যপদ।
মাউশির অধীনে স্নাতক কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৭৬৮টি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৯২৩টি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৮৭২টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৫০৪টি।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কামিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি, ফাজিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২০২টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি, আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২১৯টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি এবং দাখিল পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯টি ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১ হাজার ৪টি পদ শূন্য রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় অধ্যক্ষ ১১০টি, ভোকেশনাল সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টিসহ মোট ১৯০টি পদ খালি রয়েছে।
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে যেসব পরিবর্তন আসছে
নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি তিন বিভাগের জন্যই ২০০ নম্বরের অভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে বিভাগভেদে আলাদা নম্বর বণ্টনের প্রস্তাব থাকলেও এতে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তিন বিভাগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করলে বৈষম্যের অভিযোগ উঠতে পারে। সে কারণে একই ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এনটিআরসিএর বোর্ড সভা এবং পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
জানা গেছে, এনটিআরসিএর ইতিহাসে এবারই প্রথম নিবন্ধন বা নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন বিধিমালায় ভাইভা নম্বর সংযোজনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিবাচক। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বয়স গণনার ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনকে ভিত্তি হিসেবে ধরার প্রস্তাবও রয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ডায়িং