ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২
‘গুপ্ত’ রাজনীতি নিয়ে উত্তপ্ত ভোটের মঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক: পৃথিবীর ইতিহাসে ‘গুপ্ত’ পরিচয়ের ব্যবহার কখনও ইতিবাচক, কখনও নেতিবাচক রূপে সামনে এসেছে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ের মতো এত ঘন ঘন ‘গুপ্ত’ শব্দের ব্যবহার আগে দেখা যায়নি। অতীতে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গোপনে কার্যক্রম চালিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের ভেতরে অবস্থান করেও নিজ আদর্শ লুকিয়ে রাখার প্রবণতা এত ব্যাপক আকারে আলোচনায় আসেনি।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ‘গুপ্ত’ শব্দটি নতুন এক অর্থ ও পরিচয় পেতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে নানা রাজনৈতিক ঘটনা, বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যে এই শব্দটি ঘুরেফিরে উঠে আসে। নির্বাচনি মাঠে এসে বিষয়টি আরও জোরালো হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে প্রচারণা থেকে শুরু করে জনসভা পর্যন্ত।
ইতিহাসে ‘গুপ্ত’ বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়েছে। প্রাচীন যুগে রাজারা গোপনে দূত পাঠাতেন জোট, চুক্তি কিংবা যুদ্ধবিরতির বার্তা নিয়ে। বিভিন্ন সভ্যতায় গুপ্তচর, গোপন বার্তা ও আড়ালের কূটনীতিকে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবেই দেখা হতো। মধ্যযুগে রাজদরবারে গোপন বৈঠক কিংবা ছদ্মবেশে দূত পাঠানো ছিল স্বাভাবিক রাজনৈতিক অনুশীলন। দুই বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন শতকে গুপ্ত সংগঠনের অস্তিত্বও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে বর্তমান রাজনীতির ‘গুপ্ত’ আলোচনা সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
২০২৪ সালে এসে ‘গুপ্ত’ শব্দটি নতুনভাবে আলোচনায় আসে বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিকে কেন্দ্র করে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন— এমন অনেকেই পরবর্তীতে নিজেদের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা প্রকাশ করেন। জুলাই আন্দোলনের পর তারা এই অবস্থানকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। সেই সময় সংগঠনের ভেতরে নিজেকে আড়ালে রাখার বিষয়টি ‘গুপ্ত’ পরিচয় হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে।
২০২৫ সালের শুরুতে এক সমাবেশে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শিবিরের কোন কোন নেতা সম্মুখ সারিতে ছিলেন— সেটি দেখা দরকার। তিনি দাবি করেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের মধ্যে গুপ্ত অবস্থায় ছিল এবং ছাত্রলীগের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রাজনীতি করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হলে তারা কি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতো? সে সময় এই বিষয়টি আন্দোলনের কৌশল হিসেবে প্রশংসাও পায়।
এরপর ‘গুপ্ত’ শব্দটি আরও জোরালোভাবে উঠে আসে নির্বাচনি রাজনীতিতে। ৩১ জানুয়ারি এক জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবার ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়। তিনি বলেন, অনেকেই বিভ্রান্ত করতে আসবে এবং তাদের ‘গুপ্ত’ বলে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬ বছর যাদের দেখা যায়নি, যারা পালিয়ে যাওয়া শক্তির সঙ্গে মিশে ছিল— তারাই এখন সামনে আসছে।
এর পরদিন এক জনসভায় এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কেউ কেউ তাদের গুপ্ত বা সুপ্ত বলে কটাক্ষ করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, যারা নিজেরাই গুপ্ত-সুপ্ত হয়ে থেকেছেন, তারা যদি অন্যকে গুপ্ত বলেন— তাহলে কেমন লাগবে? তিনি এই মন্তব্যকে লজ্জাজনক বলেও উল্লেখ করেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করায় তাদের গায়ে লেগেছে বলেই প্রতিক্রিয়া এসেছে। তিনি বলেন, ইসলামী রাজনীতিতে গুপ্তের কোনও জায়গা নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে গুপ্ত রাজনীতি মুনাফেকির সঙ্গে তুলনীয়। জামায়াত যদি স্বীকার করে যে তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে, তাহলে তা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেই সমালোচিত হবে।
এএসএম/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ডায়িং