ঢাকা, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

৩৭ দফা স্বাস্থ্য পরিকল্পনাসহ জামায়াতের ইশতেহারে যা আছে, দেখুন এখানে

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ২১:০৫:৩২

৩৭ দফা স্বাস্থ্য পরিকল্পনাসহ জামায়াতের ইশতেহারে যা আছে, দেখুন এখানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যের পণ্য নয় বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ৩৭ দফার এক উচ্চাভিলাষী স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের এই অংশটি তুলে ধরা হয়। এতে বিনামূল্যে চিকিৎসা, জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের মাধ্যমে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসার চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ডিজিটাল হেলথ কার্ড

ইশতেহারে জামায়াত ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিকের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা চালু করা হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য থাকবে ‘ডিজিটাল হেলথ কার্ড’। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে একটি সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

হাসপাতাল বিকেন্দ্রীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি

বর্তমানে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেকাংশেই ঢাকাকেন্দ্রিক। এই সংকট নিরসনে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছে জামায়াত। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে কমপক্ষে ৫ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, আইসিইউ এবং সিসিইউ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান প্রথম এক বছরের মধ্যেই শতভাগ সক্ষমতায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দলটি।

জনবল নিয়োগ ও বাজেট বৃদ্ধি

স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ সকল শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চিকিৎসক-রোগী অনুপাত নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে তিনগুণ বাড়ানো হবে।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে জামায়াত। সরকারি হাসপাতালের আয়-ব্যয়ের হিসাব পাবলিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং কেনাকাটায় ই-জিপি (e-GP) চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে ‘কমিশন বাণিজ্য’ এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধে বিশেষ আইন ও কঠোর নজরদারি করা হবে।

বিশেষায়িত সেবা ও গবেষণায় সংস্কার

ইশতেহারে নারী ও শিশুর চিকিৎসায় বিশেষ অগ্রাধিকার, প্রবীণদের জন্য বিশেষায়িত সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রবাসীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করারও প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা বলেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল জনগণের আস্থার একটি চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

জামায়াতের পুরো ইশতেহার দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন