ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের হাতে দেশ নয়: মির্জা ফখরুল

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৮:০২:১৯

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের হাতে দেশ নয়: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে কোনো আপস নেই এবং যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যায় না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখনগর ইউনিয়নের দোলুয়াপাড়ায় আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অংশ নিচ্ছে এবং কিছু বক্তব্যে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়—যা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ওই সময়ে যারা আমার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে তাদেরকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে আমি না। এ জন্য জামায়াতে ইসলামীকে আমরা রাষ্ট্রের ক্ষমতা দিতে পারি না। তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার ভার দেওয়া ইতিহাস ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সভায় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য হিন্দু-মুসলিম সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন, তাদের আশ্বস্ত করতে চান। ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে কোনো অবহেলা হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাস শেষে দেশে ফিরেছেন এবং দেশে ফিরেই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলেছেন। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে মানুষ সাশ্রয়ে নিত্যপণ্য কিনতে পারবে এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা পাবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড চালু করা হবে, যাতে তারা সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ ন্যায্য মূল্যে কিনতে পারেন। পাশাপাশি শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার জন্য ভালো স্কুল, সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত হাসপাতাল এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

নির্বাচনে জয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জেলায় একটি বিমানবন্দর ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন