ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল ফ্রান্স

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ২০:১৫:৩২

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল ফ্রান্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ উঠলেও দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের পথে হাঁটছে না ফ্রান্স। প্যারিস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ তাদের নীতিগত অগ্রাধিকার নয়।

রোববার ফ্রান্সের একটি রাজনৈতিক টকশোতে অংশ নিয়ে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস রুফো এ অবস্থান তুলে ধরেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানো জরুরি হলেও সামরিক হস্তক্ষেপকে সমাধান হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স।

‘লে গ্রঁ জুরি’ অনুষ্ঠানে অ্যালিস রুফো বলেন, ইরানি জনগণকে যতটা সম্ভব সহায়তা করা প্রয়োজন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইরানের জনগণকেই নিতে হবে। বাইরের কোনো শক্তির পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ চাপিয়ে দেওয়া সঠিক পথ নয়।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় ইরানে বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য ‘গণ-অপরাধ’ নথিভুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ থাকায় প্রায় ৯ কোটির বেশি মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক সহিংস দমন অভিযান চালিয়েছে। তাদের তথ্যমতে, এসব অভিযানে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নরওয়ে-ভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে, ইরান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সরকার, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ পথচারী রয়েছেন। বাকি নিহতদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছে কর্তৃপক্ষ।

ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানের জনগণ স্পষ্টভাবেই বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে। তবে ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল ইরানিদেরই—বাইরের কোনো দেশের নয়।

এদিকে, বিক্ষোভ দমনের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিলেও পরে অবস্থান কিছুটা শিথিল করেন। তেহরান পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে—এমন খবরে তাঁর ভাষা নরম হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নেয়। একপর্যায়ে তা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী উৎখাতের দাবিতে দেশজুড়ে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত