ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
৯ মসজিদের খাটিয়া এলো বাড়িতে, জুমার পর জানাজা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের নয়জন সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে ওই নয়জনের মরদেহ মোংলা উপজেলার শেহালাবুনিয়া এলাকায় পৌঁছালে সেখানে শোকের মাতম শুরু হয়। অন্যদিকে কনেসহ চারজনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়।
জানা গেছে, গত বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে কনের বাড়ি থেকে মাইক্রোবাসে করে বরযাত্রীরা মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন।
দুপুর আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বর-কনে, চালকসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত একজন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ভাগনে সামিউল ইসলাম ফাহিম, ভাবি ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং ভাতিজা-ভাতিজি আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ার বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈমও এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
শুক্রবার সকালে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাহত মানুষের ঢল নেমেছে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ হাবিবুর রহমান বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো লাশ আমি জীবনে দেখিনি, এমন দৃশ্য সহ্য করা খুবই কঠিন।”
নিহত আবদুর রাজ্জাকের ভাই সাজ্জাদ সরদার জানান, এই দুর্ঘটনায় তাদের পুরো পরিবার প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, একসঙ্গে এত মরদেহ বহনের জন্য আশপাশের নয়টি মসজিদ থেকে খাটিয়া সংগ্রহ করতে হয়েছে।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বরপক্ষের নয়জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তাদের মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে। অন্যদিকে কনেপক্ষের সদস্যদের কয়রা উপজেলায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জেনে নিন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল কবে, জানাল বোর্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০১ নভেম্বর)
- সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় এনজিওতে চাকরির সু্যোগ, বেতন ২৫-৬০ হাজার
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩০ অক্টোবর)
- তাশরীফের বাবার ১৭–১৮টি বিয়ের দাবি মায়ের