ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
‘আগেই ভালো ছিলাম’ ধারণার সমালোচনায় অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয় বলে অতীতের পরিস্থিতি ভালো ছিল—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। ‘আগেই ভালো ছিলাম’—এমন ধারণার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাত, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা ‘আগেই ভালো ছিলাম’ পক্ষের মানুষ তাদের জন্য কিছু কথা। হ্যাঁ, আমরা এখনও ভালো নেই এর মানে একদম এই না যে তখন ভালো ছিলাম।’
বেসিক ব্যাংকের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক মামুন লেখেন, আব্দুল হাই বাচ্চু কীভাবে বেসিক ব্যাংককে পথে বসিয়েছেন, তা মানুষের অজানা নয়। তাঁর অভিযোগ, ব্যাংকটি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে গ্রাহকদের বিপদে ফেলা হয়েছে। পরে ব্যাংকটিকে বাঁচাতে সরকার জনগণের করের টাকা দিলেও সেই অর্থও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বহু প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও ২০২৩ সালে আব্দুল হাই বাচ্চুকে নিরাপদে কানাডায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, তাঁকে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান কে বানিয়েছিলেন এবং কার নির্দেশে ২০২৪ সালের আগেই তাঁকে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল?
এস আলমের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মামুন বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংককে ফোকলা করে দেওয়া এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে নিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা থেকে বাঁচতে নাগরিকত্ব ছাড়ার পরও তিনি কীভাবে বাংলাদেশে আজীবন থাকার বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন অধ্যাপক মামুন। এ সুবিধা কে দিয়েছেন এবং কার ইশারায় দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান তিনি।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়া শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধেও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তোলেন অধ্যাপক মামুন। তিনি লেখেন, ‘মানুষ কী জানেনা সালমান এফ রহমান কি করেছে? সে শেখ হাসিনার সবচেয়ে কাছের মানুষদের মধ্যে অন্যতম একজন। তার প্ররোচনায় বিদেশে বিনিয়োগের সুবিধা আদায় করে বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন দেশে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। এর সম্বন্ধে আর কি বলবো?’
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। অধ্যাপক মামুন লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের নাম শুনেননি? শুধু ইংল্যান্ডেই নাকি তার ৩০০ এর বেশি বাড়ি আছে। আরও আছে দুবাইতে, কানাডায়। কয়েকদিন আগে শুনলাম তার ভাইয়ের নাকি ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ইংল্যান্ডে বাড়ি আছে। সেই বাড়িতে শেখ রেহানা থাকতো। ধারণা করা হয় এইসব কিছুই কেনা হয়েছে শেখ রেহানার জন্যই।’
২০২৪ সালের পর সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিদেশে অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ২০২৪ সালের পর হাজার হাজার মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলের নেতারা ইউরোপ, আমেরিকা, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও ভারতে রাজকীয় জীবন যাপন করছেন। সবকিছু মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকার অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ও অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মতো ব্যক্তিদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করেছিল। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ইংরেজির অধ্যাপক, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে কেন উপাচার্য করা হয়নি?
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আগামী ৫০ বছরেও পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অধ্যাপক মামুন। তিনি বলেন, জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও নিয়োগ দেওয়ার মতো যোগ্য শিক্ষক দেশে নেই। তাঁর অভিযোগ, যোগ্য শিক্ষক খোঁজার পরিবর্তে দলীয় ক্যাডারদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সমাজে শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। যাঁদের দেখে মানুষ শিক্ষক সম্পর্কে এমন ধারণা করছে, তাঁদের শিক্ষক হওয়ারই কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক। তাঁর দাবি, বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বেশি দেখাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন খরচও শিক্ষা খাতে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরে শিক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকদের একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এ সময় অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দেশ ছেড়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। এতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা ধর্মান্ধরা পূরণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে অধ্যাপক মামুন বলেন, সরকার চাইলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে পারত। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সে সময় নিজেদের স্বার্থ ও দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হয়নি। শেখ হাসিনা তাঁর বাবাকে শুধু ব্যবহার করেছেন, কিন্তু বাবার দুর্নাম অর্জন ছাড়া তাঁর জন্য কিছুই করেননি বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল কবে, জানাল বোর্ড
- সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় এনজিওতে চাকরির সু্যোগ, বেতন ২৫-৬০ হাজার
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০১ নভেম্বর)